গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশ সেনার একটা অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তা সাহির শামসাদ মির্জার সে দেশ সফর, সেনা প্রধান ওয়াকার উজজামানের চিকেন নেক বরাবর লালমনির হাট, ঠাকুরগাঁও পরিদর্শন। জেনারেল মির্জাকে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস একটি বই উপহার দিয়েছিলেন। যে বইয়ের প্রচ্ছদে আঁকা মানচিত্রে দেখানো হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্য বাংলাদেশের অধীনে। ভারত কড়া ভাষায় এর প্রতিবাদ করে। সেই প্রতিবাদের পরেও যে উত্তরপাড়া চুপচাপ বসেছিল এমনটা নয়। আর ৭ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের একটি দৈনিক যে খবর প্রকাশ করেছে, তা দিল্লির হৃদকম্পন বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ঠ।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি সেনাছাউনি। সেই সব সেনাছাউনি শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছেই। সেই খবর পাওয়ার পরে পরে ভারতীয় সেনা পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সীমান্তে এপারে ভারতীয় সেনা তিনটি ছাউনি তৈরি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় সেনার এক পদস্থকর্তা এই খবর দিয়ে বলেন, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশ সেনা অতিসক্রিয়তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ওপার থেকে কোনওরকম হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সেনা পালটা জবাব দিতে পারবে।
সেনা সূত্রে খবর, সীমান্তে এই প্রস্তুতির কারণ আজারবাইজান থেকে খুব গোপনে একটি কার্গো বিমান বাংলাদেশে অবতরণ করে। যে আকাশপথ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল, বিমানটি সেই আকাশপথ ব্যবহার করেনি। বিমানে কী এসেছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আজারবাইজান থেকে বিমান আসার কারণ দিল্লির উদ্বেগ অন্য জায়গায়। অপারেশন সিঁদুরের সময় আজারবাইজান এবং তুরস্ক সমবেতভাবে প্রতিবাদ করে। শোনা যাচ্ছে, আজারবাইজান থেকে আসা বিমানটি ইরানের আকাশ পথ এড়িয়ে চলে। ঢাকা বা উত্তরপাড়ার তরফে এই নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিমানের ছবি এবং ভিডিও।
এদিকে, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এগজিভিশন ও কনফারেন্সে যোগ দিতে পাকিস্তান গিয়েছিলেন বাংলাদেশ নৌসেনাপ্রধান প্রধান মুস্তাক আহমেদ। তিনি পাকিস্তান নৌঘাঁটিও পরিদর্শন করেন। সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌ সহযোগিতা ও সামুদ্রিক শিল্পে অংশীদারীত্ব নিয়ে বৈঠক হয়। এই বৈঠকে ঢাকা এবং ইসলামাবাদ রুটিন বৈঠক বলে দেগে দিলেও সাউথব্লক এই বৈঠককে একেবারে অন্য চোখে দেখছে। আর সেই বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গীর ফল মিলল শুক্রবার সন্ধ্যা।
বাংলাদেশে একটি মার্কিন সেনাবিমানও ঢুকে পড়েছে বলে খবর। অবতরণের কয়েক ঘণ্টা বাদে বিমান থেকে মার্কিন সেনাদের নামতে দেখা যায়। তারা উঠেছে বাংলাদেশের একটি অভিজাত হোটেলে। বিমান অবতরণ করে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে। এই খান থেকে শিলিগুড়ির চিকেন নেক বলা যায় ঢিলছোঁড়া দূরত্বে। একশো কিলোমিটারেরও কম। কেন মার্কিন সেনাবিমান ঢাকা গেল, কে তাদের আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে, এই নিয়ে না যমুনার বাসিন্দা মুখ খুলেছেন, না উত্তরপাড়ার সর্বময় কর্তা জেনারেল ওয়াকার উজজামান। কিন্তু ভারত যে আর চুপচুপ বসে থাকতে নারাজ, সেটা এদিন বোঝা গেল সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাল্টা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে। সাউথব্লক থেকে ঢাকা এবং উত্তরপাড়াকে এই বার্তা দেওয়া হল যে মারে বদলা মার।












Discussion about this post