অবরুদ্ধ গাজায় প্রায় এক হাজারের বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিল গ্রীস। রমজান মাসে নমাজ পড়ার জায়গা পাচ্ছে না মুসলিমরা।ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক হাজার ২০০ মসজিদের মধ্যে অন্তত এক হাজার মসজিদ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। গ্রীসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রমজান মাসের তারানামাজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ মসজিদগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সব চেয়ে বড়ো ও প্রাচীন মসজিদটি ছিল ১৪শো বছরের পুরনো মহান ওমরী মসজিদ। ছোট আল আকসা নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি একসময় পাঁচ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এবং এটি ছিল ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনিদের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ। সাম্প্রতিক ইজরায়েলি হামলায় এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মসজিদে অবৈধভাবে বাস করছিল বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানিরা। বলা হচ্ছে এরা গ্রীসে অবৈধভাবে ঢুকে মসজিদে আশ্রয় নিয়ে ধর্মপ্রচারের নামে সরকারি জায়গা দখল করে মসজিদ তৈরি করেছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিকমহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গ্রীসের মোট জনসংখ্যার মধ্যে কট্টরপন্থী খ্রিষ্টান ৯০ শতাংশ। মুসলিমদের সংখ্যা এখানে আগে ছিল মাত্র দুই শতাংশ। সেটা বেড়ে বর্তমানে পাঁচ শতাংশ। এর কারণ হিসেবে উঠে আসছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম গ্রীসে অবৈধভাবে ঢুকে পড়ে। আগে গ্রীসে বসবাস করত তুরস্কের মুসলিম সম্প্রদায়। বর্তমানে ২০১০-য়ের পর এই বাংলাদেশি ও পাকিস্তানের মুসলিমদের দাপট বাড়তে শুরু করে। দুই দেশের নাগরিকরা চাকরির নাম করে গ্রীসে যায়। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা সেখানে থেকে যেতে শুরু করে। পরবর্তীকালে তারা এই ধরনের মসজিদ তৈরি করে। এই সব মসজিদ চরমপন্থায় বিশ্বাসী। তারা সেখানকার মানুষদের কট্টরপন্থী ইসলামি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করে। গ্রীস সরকার দুটি ঘটনার এর প্রমাণ পেয়েছে।
সে দেশের অভিবাসন এবং শরাণার্থী দফতরের মন্ত্রী থ্যানোস প্লেভরিস জানিয়েছেন, তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সব অবৈধ মসজিদ আছে, সেগুলি ভেঙে ফেলা হবে। সব অবৈধ পরিকাঠামো সিল করে দেওয়া হবে। যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে যারা বিদেশি, তাদের গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। গ্রীসের দাবি, যে সব মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেই সব মসজিদগুলি অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এথেন্সের একটি ঘটনা। এথেন্স একটি প্রাচীনতম শহর। সম্প্রতি সেখানে সরকারের তরফে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়। প্রতিনিধিদল দেখানে সেখানে অবৈধভাবে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। আর ওই সব মসজিদে মৌলবাদী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টার্গেট করা হয়েছে দেশের যুবসম্প্রদায়কে। ধর্মচর্চার নাম করে সেখানে জিহাদি তৈরির কাজ চলছে। সেখান থেকে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। জানা যায় সে বাংলাদেশি। অবৈধভাবে গ্রীসে ঢুকেছিল। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে গ্রীস সরকার। গ্রীসের তরফ থেকে যারা এই ধরনের কাজ করবে, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আইনানুগ পদক্ষেপ করবে। ধর্মচর্চার নাম করে অবৈধ নির্মাণ করা যাবে না। তাদের রেসিডেন্সিয়াল পারমিট বাতিল করে দেওয়া হবে। তারা যে দেশ থেকে এসেছে, অর্থাৎ বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান, তাদের সেই সব দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দুটি দেশ তাদের নাগরকিদের ফেরত নিতে বাধ্য থাকবে। গ্রীস জানিয়েছে, এই সব বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানিদের জন্য তাদের সংস্কৃতি নষ্ট হচ্ছে। এরা গ্রীসকে গোপনে অস্থির করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এথেন্সে এখনও ৬০টি অবৈধ মসজিদ রয়েছে।












Discussion about this post