গল্পের শুরুটা হয়েছিল সেই কংগ্রেস আমলে। যখন ভারতের নীতি ছিল সকলের সঙ্গেই মানিয়ে চলা। কিন্তু মাঝে একটা সুবাতাস এসেছিল। যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন অটল বিহারি বাজপেয়ী। সেই সময় ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার মাথায় ছিলেন বিশ্ববরেন্য বিজ্ঞানী ডঃ এ পি যে আব্দুল কালাম। যিনি পরে ভারতের রাষ্ট্রপতির পদও অলংকৃত করেছিলেন। দুজনেই আজ প্রয়াত, কিন্তু আজকের ভয়ডরহীন ভারতের ভিত তাঁরাই গড়ে দিয়েছিলেন। এই দুজনের যুগলবন্দী পোখরানে পারমাণবিক ও হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করেছিলেন, হ্যাঁ ভারতও পারে। মজার ব্যাপার সেই পরীক্ষা হয়েছিল অতি গোপনে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষুএড়িয়ে। অনেক পরে এলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু তাঁর একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ ভারতকে তুলে নিয়ে এল এক অনন্য উচ্চতায়। ভারত এখন বিশ্বের মহা শক্তিধর দেশ গুলির মধ্যে প্রথম পাঁচে রয়েছে। আর এই ম্যাজিক হয়েছে মাত্র এক থেকে দেড় দশকের মধ্যে। এটা হল ভূমিকা, এবার আসল গল্পে আসা যাক। কোন সাহসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রবল প্রতিপক্ষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্রমাগত অবজ্ঞা করছেন? আর কেনই বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিরতা তৈরি হল, যার জেরে সুর নরম করতে হচ্ছে স্বয়ং ট্রাম্পকেই! কি এমন ঘটছে ভিতরে ভিতরে?
যারা গোটা বিশ্বের উপরেই ছড়ি ঘোরাতে অভ্যস্ত, তাঁরাই এখন নিজের ঘর সামলাতে ব্যস্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন ভারতের এবার সোনায় সোহাগা। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালে ট্রাম্প একাধিকবার নরেন্দ্র মোদির বিরাট বিরাট প্রশংসা করেন এবং তাঁকে খুব ঘনিষ্ট বন্ধু বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই পুরো পাল্টি খেলেন ট্রাম্প। যদিও তাঁর দাবি নীতিগত দিক থেকে ঠিকই ছিল। তিনি বলেছেন, “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন”, যা মাগা নামে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর অর্থ হল, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মহান হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এখানেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, তাহলে বিশ্বের এক নম্বর শক্তিধর দেশ আমেরিকা কি মহান ছিল না? আসল গল্প এখানেই, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির হাল খুবই খারাপ। গত ১৪ অক্টোবর মার্কিন সিনেটে ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান-সমর্থিত অস্থায়ী তহবিল বিল পাস করতে ব্যর্থ হয়। ওই অর্থনৈতিক বিলটি পাস করতে প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট, কিন্তু ট্রাম্পের রিপাবলিকরা জোগার করতে পেরেছিল মাত্র ৪৯টি ভোট এবং বিপক্ষে ভোট পড়েছিল ৪৫ ভোট। ফলে বিলটি পাস হয়নি, আর এ কারণেই ১ অক্টোবর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন শুরু হয়। এই অবস্থা এখন তৃতীয় সপ্তাহে পড়েছে। সাত বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে এমন অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদির এক মোক্ষম চালে ভারতের অর্থনীতি রকেটের গতিতে এগোচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত দিওয়ালি উৎসবের সময় ভারতে যে পরিমান বিক্রি বেড়েছে, তা মার্কিন অর্থনীতিকেও টেক্কা দিয়েছে বলে দাবি অর্থনীতিবিদদের। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে দীপাবলিতে বিক্রি রেকর্ড ৬.০৫ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইনের ধাঁচেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোগান’ভোকাল ফর লোকাল’ এবং আত্মনির্ভর ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অর্থনীতি চড়চড় করে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে গত বছরের তুলনায় ভারতীয় তৈরি পণ্যের বৃদ্ধি প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে এই দিওয়ালিতে। আর এটা সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র জিএসটি কমানোর জন্যই। সূত্রের খবর, এই ব্যবস্যা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অংশ নিয়েছে ১২ শতাংশ, তারপরে রয়েছে স্বর্ণ ও গহনা ১০ শতাংশ, ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক পণ্য ৮ শতাংশ এবং ভোগ্যপণ্য, তৈরি পোশাক এবং উপহার সামগ্রী ৭ শতাংশ। আর অর্থনীতিবিদদের মতে, এই কাজটা আরও সহজ করেছে ইউপিআইয়ের ব্যবহার। সবমিলিয়ে মার্কিন অর্থনীতি যখন ধ্বংসের মুখে, ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধি তখন উর্ধ্বমুখী। আর এটাই হল ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম। এই চাহিদার একটা বড় অংশ মেটায় ভারত। কিন্তু বাড়তি ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়ে দেওয়ায়, মার্কিন পণ্যেও দাম বেড়েছে লাফিয়ে। এটাই মার্কিন অর্থনীতিকে ধাক্কা দিয়েছে। তাই এখন সুর নরম হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।












Discussion about this post