মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিরাট আকার ধারণ করতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত এমন এক পদক্ষেপ করেছে, নিঃসন্দেহে যা ব্যতিক্রমী। ভারতের এই পদক্ষেপে আমেরিকা খুশি নয়। যদিও আমেরিকাকে খুশি করার দায় আমেরিকার নেই। সেই খবরে যাওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে সামান্য কিছু কথা। আমেরিকা তাদের রণকৌশল বদলে নিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে পরে আমেরিকা ইরানের সামরিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করে। এখন তারা ইরানের যে সব জায়গায় হামলা চালাচ্ছে, সেই সব হামলার লক্ষ্য হল দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করে দেওয়া। আমেরিকা ইরানের বড়ো তেল ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের তিরিশগ্রামে জল সরবরাহের যে পাইপলাইন আছে, সেই পাইপলাইনেও হামলা চালিয়েছে। অর্থাৎ আমেরিকা এখন বেসামরিক এলাকাতেও হামলা চালাচ্ছে। এই অবস্থায় এখন ইরানের সামনে একটাই প্রশ্ন – তারা কি হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে? এই হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রাবল্য কিন্তু উর্ধ্বমুখী। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বে জ্বালানি সংকট আসন্ন। এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।
কিছুদিন আগে ইরানের একটি যুদ্ধ জাহাজকে টর্পেডো দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা। হামলায় শতাধিক ইরান সেনার মৃত্যু হয়েছে। আরও ১০০ জনকে শ্রীলঙ্কা সরকার চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের দেশে রেখেছে। ওয়াশিটনের তরফে তাদের একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন কলম্বোকে জানিয়েছে, তাদের দেশের চিকিৎসাধীন ওই ১০০ জন ইরান সেনাকে যে দেশে ফেরত না পাঠায়। যদি ফেরত পাঠায়, তাহলে আমেরিকা তাদের খতম করে দেবে। এই যুদ্ধে বিশ্বের সমস্ত দেশ না চাইতেই জড়িয়ে যাচ্ছে। এর মূলে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসন নীতি।
এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পিছনে নির্দিষ্ট একটি কূটনৈতিক চালও রয়েছে। ভারত ইরানের একটি যুদ্ধ জাহাজকে কোচিতে আশ্রয় দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। জাহাজটিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তেহরানের তরফে দিল্লির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে। দিল্লির এই সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছে আমেরিকা। ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্তি ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহলি বলেন, “ ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনার ওপর হামলার পর গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ” এই প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের তরফ থেকে আমাদের কাছে একটি বার্তা এসেছিল। বলা হয়েছিল, তাদের একটি জাহাজ প্রযুক্তিগত কারণে সমস্যার মুখে পড়েছে। ফলে, নিকটবর্তী বন্দরে তারা নোঙর করতে চায়। ওই বার্তা পাওয়ার পরেই ১ মার্চ জাহাজটিকে কোচি বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
গত বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানি রণতরী “ডেনা”র ওপর হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। টর্পেডো হামলা চালিয়ে যুদ্ধজাহাজটিকে ধ্বংস করে দেয় তারা। ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে জাহাজটি বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে নিরস্ত্র অবস্থায় গিয়েছিল ডেনা। টর্পেডো হামলায় এখনও পর্যন্ত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জীবীত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৩২জনকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবারের হামলাটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে। শ্রীলঙ্কার নৌসেনা ওই যুদ্ধ জাহাজের উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ শহর গলের একটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চলছে।
এদিকে, রিলায়েন্সের জামনগর সংশোধনাগার থেকে দুটি তেলের জাহাজ ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিল। এর মধ্যে একটি জাহাজের নাম অ্যাডভান্টেজ লাইফ। তাতে ছিল এক লক্ষ মেট্রিকটন ডিজেল। অন্যটিতে ছিল ৭৫ হাজার টন। এই দুটি জাহাজের যাওয়ার কথা ছিল ইউরোপে। ভারত মাঝপথে জাহাজদুটি যাত্রাপথ বদলে দেয়। তারা এবার দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার দিকে যেতে শুরু করেছে। ভারত স্পষ্ট বুঝিয়ে দল ইওরোপকে বিপদে ফেলেছেন ডোনাল্ড টাম্প। আর ইউরোপকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার দায়িত্ব ভারতের নয়। দায়িত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।












Discussion about this post