বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। এটা নয়া দিল্লি আকারে ইঙ্গিতে বহুবার বুঝিয়ে দিয়েছে। কখনও বিবৃতি দিয়ে, কখনও বা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়। বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের বক্তব্য সুষ্ঠ, অবাধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। অর্থাৎ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকতে হবে আসন্ন নির্বাচনে। অন্যদিকে রাজনৈতিক হিংসার বলি হচ্ছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরাই, সেটাও ভারত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখেই নির্বাচনে যেতে চাইছেন সেটাও ভারত বুঝে গিয়েছে। ফলে নয়া দিল্লি এবার প্ল্যান বি প্রস্তুত করে ফেলেছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ভারতের সেই প্ল্যান বি-তে এখন বিএনপি, সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ আপাতত সাইড লাইনে। তবে ভারত যে আওয়ামী লীগের হাত ছাড়ছে না, সেটাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকার হোক বিএনপির, তারেক রহমান হোক পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। আর সেই কারণেই বিএনপির কর্মী সমর্থকদের জন্য লাগাতার বার্তা দিয়ে চলেছে ভারত। সদ্য বিএনপির চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন তারেক রহমান, তিনি তাঁর মায়ের স্থলাভিসিক্ত হলেন। এরপরই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মা দেখা করলেন তারেক রহমানের সঙ্গে। প্রায় ৪০ মিনিট তাঁদের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূত আসেন। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার বেলা তিনটের দিকে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎটি করেন ইউরোপীয়ো ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। এরপর সন্ধ্যা ছয়টায় সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন। পরে সন্ধ্যা সাতটায় বিএনপির কার্যালয়ে এসে মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বোঝাই যাচ্ছে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু কার্যত তারেক রহমান। তাঁকে কেন্দ্র করেই বিদেশি রাষ্ট্রগুলি আবর্তিত হচ্ছে। তবে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের সাথে। এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি জল্পনা কল্পনা চলছে বাংলা্দেশে। কারণ, বহু বাঁধা অতিক্রম করে আচমকাই তারেকের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকায় পৌঁছে যাওয়া, সবটাই এত আকশ্মিক ঘটেছে যে অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিক কি ঘটল নেপথ্যে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লন্ডনে থাকাকালীনই তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ শুরু করেছিল তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর জন্য। লন্ডনে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কে দোরাইস্বামী এ ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। কারণ, লন্ডনে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীর্ঘসময় ভারতের বিদেশমন্ত্রকে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সংস্থা সার্কের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন, পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ডেস্কের বিভাগীয় প্রধানও ছিলেন। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে বিক্রম কে দোরাইস্বামী যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তারেকের দেশে ফেরা নিয়ে যে সংশয় ও বাঁধা ছিল, সেটা ভারত সরকার সমাধান করে এবং তাঁর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করে দেয়। অন্যদিকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জ়িয়ার মৃত্যুর পরে শোকবার্তা জানিয়ে তারেককে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেই খালেদার শেষকৃত্যে ঢাকায় গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে তিনি বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের প্রিয় নেত্রীর শোক ভাগ করে নিয়েছেন। এবার ঢাকায় বিএনপির দফতরে গিয়ে তারেকের সঙ্গে বৈঠক সারলেন ভারতের রাষ্ট্রদূত।
গুলশনে বিএনপির দফতরে তারেক ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীক এবং ভারতীয় দূতাবাসের দুই আধিকারিকও। কী নিয়ে তাঁদের বৈঠক হয়েছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বৈঠকের পরে বিএনপি-র যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে কী সম্পর্ক হবে, তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাহেব চিঠির মাধ্যমেই বলে দিয়েছেন। এদিনের বৈঠক নিয়ে বিএনপি নেতা বলেছেন, সৌজন্যমূলক বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে। কী ভাবে দুই দেশ মিলে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেটা জানা যাচ্ছে সেটা হল, ভারত চাইছে এবারের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে যে আওয়ামী লীগের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং অহেতুক মামলা-মোকদ্দমা তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশে যে হানাহানি এবং প্রতিশোধমূলক রাজনীতি চলছে, সেটাও বন্ধ করার কথা তারেককে জানানো হয়েছে ভারতের তরফে। যাতে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বমহিমায় ফিরে আসতে পারে, সেটাই এখন দেখতে হবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post