পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে আবারও আক্রান্ত জাফর এক্সপ্রেস। এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে ওই ট্রেনের ৬টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছিল। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, কোয়েটাগামী জাফর এক্সপ্রেসে সফর করছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ফলে ওই ট্রেনকেই টার্গেট করেছিল বালুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীরা। বালুচ লিবারেশন আর্মির বালুচ রিপাবলিক গার্ডস এই হামলার দায়ভার নিলেও পাকিস্তান এই ঘটনার জন্য ভারতকেই দায়ী করছে। যদিও ভারত এই অভিযোগ নস্যাৎ করতে সময় নেয়নি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ফের একবার ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “একমাত্র মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামল ছাড়া ভারত কখনও সত্যিকার অর্থে ঐক্যবদ্ধ ছিল না”। পাকিস্তানের সামা টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এও বলেন, “ভারতের সাথে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাস্তব”। কূটনৈতিক মহলের দাবি, এটা হল সরাসরি যুদ্ধের উস্কানি দেওয়া। আসলে ভারত ফের অপারেশন সিঁদুরের তোড়জোর করছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। বিগত কয়েকদিনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ ভারতের স্থল ও বায়ুসেনা সেনাপ্রধানও পাকিস্তানকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ না করলে পাকিস্তানের ইতিহাস-ভুগোল পাল্টে যেতে পারে। ঠিক এই আবহেই কার্যত খেলা ঘুরিয়ে দিল ভারত।
আফগানিস্থানের তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছেন। তাঁর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি ভারত। কিন্তু কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, তালিবান সরকারের এক মন্ত্রী যখন সরকারি সফরে আসেন, তখন তালিবান সরকারকে ঘুরিয়ে স্বীকৃতি দিয়েই দল নয়া দিল্লি। আর আমির খান মুত্তাকি এমন সময় দিল্লি এলেন, যখন পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যাধিক দহরম মহরম চলছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানবন্দর ফেরত চেয়ে হুমকি দিয়েছেন। সেখানে তিনি মার্কিন সামরিক বেস তৈরি করতে চান। যদিও তালিবান ট্রাম্পের সেই চাহিদা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তালিবান মন্ত্রী ভারত সফরে আসাটাই একটা মাস্টারস্ট্রোক।
কারণ, পাকিস্তানের দুটি এলাকায় চলছে স্বাধীনতার আন্দোলন। একটি হল বালুচিস্তান প্রদেশ অন্যটি হল আজাদ কাশ্মীর বা পাক অধিকৃত কাশ্মীর। পাশাপাশি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোওয়া এলাকাতেও তালিবান সমর্থিত কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সক্রিয়। বালুচিস্তান প্রদেশে বালুচ লিবারেশন আর্মি পাকিস্তান সেনা ও সরকারি কর্মকর্তাদের তাড়িয়ে দিয়ে কার্যত গোটা প্রশাসনই নিজেদের দখলে নিয়ে চলে এসেছে। সেখানে পাকিস্তান প্রশাসনের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। সেই কারণেই বারবার জাফর এক্সপ্রেস আক্রান্ত হচ্ছে বালুচ বাহিনীর হাতে। এর আগে এই ট্রেনটি হাইজ্যাক হয়েছিল, এবার বিস্ফোরণে উড়ে গেল কয়েকটি কামরা। পরিস্থিতি এমন, যে কোনও সময় বালুচরা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারেন।
প্রায় একই পরিস্থিতি পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালতিস্তানে। সেখানকার অধিবাসীরাও পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আন্দোলন শুরু করেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তনের নয়া দোসর বাংলাদেশেরও একই হাল। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সরকার নিপীড়ন, নির্যাতন চালাচ্ছে. এই দাবি তুলে ওই এলাকাকে বাংলাদেশ সরকারের কবল মুক্ত করে রাষ্ট্র সংঘের অধীনে বিশেষ স্বশাসিত এলাকা হিসাবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে চাকমা নেতা সুহাস চাকমা। বুধবার দিল্লিতে ভারত সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে পেশ করা স্মারকলিপিতে তিনি আর্জি জানানো হয়েছে গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ইনডিজেনাস পিপলস অফ দ্য চিটাগাং হিল ট্রাকস। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনজাতি গোষ্ঠীগুলির মিলিত একটি সংগঠন। বাংলাদেশের সরকারও পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্তির পিছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করছে। কিন্তু পাকিস্তান বা বাংলাদেশ কোনও পক্ষই নিজ দেশের আন্দোলনকারীদের দমাতে পারছে না। ফলে বলা যেতেই পারে, ভারতের চালে কোনঠাসা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।












Discussion about this post