বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ফিরবেন আওয়ামী লীগের সর্বো্চ্চ নেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের অলি-গলিতে এখন এটাই আলোচনা। আর এই আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল একটা খবরে। সেটা হল বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ভারত সফরের সম্ভাবনা। জেনারেল ওয়াকার কি আদৌ ভারত সফরে আসবেন? তাঁকে কি মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ভারতে আসার অনুমতি দেবেন? জানা যাচ্ছে, বেশ কিছু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, ফলে দোলাচলে ইউনূস প্রশাসন। অনেকটা শাখের করাতের মতো পরিস্থিতি ইউনূস সাহেবের। কারণ, একদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহু কর্মকর্তা ঘনঘন পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। আবার পাক সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তারা বাংলাদেশ সফরে আসছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে দেওয়া হয়নি, চিনে যাওয়া নিয়েও গড়িমসি করা হয়েছিল। এবার যদি ভারত সফরে বাঁধা দেওয়া হয় তাহলে ভারত-সহ আন্তর্জাতিক মহলে একটা ভুল বার্তা যাবে। অন্যদিকে জেনারেল ওয়াকার যদি ভারতে আসেন, তাহলে তাঁর সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার একটা সাক্ষাৎ বা ভিডিও কলে কথাবার্তা হতেই পারে। যেটা নিয়েই মূল কৌতুহল বাংলাদেশবাসীর। এ ক্ষেত্রে এটাই হতে পারে গেমচেঞ্জার পরিস্থিতি।
একদিকে বাংলাদেশে ক্রমাগত আওয়ামী লীগের তৎপরতা বাড়ছে। প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের মিছিলে বাড়ছে জনসমাগম। ভারতে বসেই নেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সংগঠনকে পুনরায় গঠন করে চলেছেন। ইতিমধ্যেই গোটা বাংলাদেশে তিনি আওয়ামী লীগের সংগঠনিক কাঠামো এমনভাবে সাজিয়ে ফেলেছেন যে এবার রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে মিছিল করছে নৌকাবাহিনী। আর তাতে সমাগম হচ্ছে দেখার মতো। আর একটি বিষয়ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। সেটা হল, আগে ঝটিকা মিছিলে আওয়ামী সমর্থকরা মুখে মাস্ক বা কাপড় বেঁধে অথবা হেলমেট পড়ে আসতেন। এখন কেউ এ সবের ধার ধারছেন না। উল্লাসের সঙ্গে স্লোগান দিতে দিতে আওয়ামী সমর্থকরা মিছিলে হাঁটছেন। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, সেটা হল ভয় কমতে শুরু করেছে তাঁদের। এবার খোলাখুলি ময়দানে অবতীর্ণ হচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষ। এই আবহেই আবার দাবি করা হচ্ছে উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ সেফ এক্সিট খুঁজছেন। অর্থাৎ তাঁরা নিরাপদ প্রস্থানের রাস্তা খুঁজছেন। যাতে রোষের শিকার না হতে হয়। এই পরিস্থিতিতে যদি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ভারত সফরে আসেন, তাহলে সত্যিই খেলা ঘুরে যাবে।
এই আবহে নাহিদ ইসলাম যে সেফ এক্সিটের তত্ত্ব সামনে এনেছিলেন, সেটা আরও বাড়িয়ে দিলেন গণ অধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার সাথে ৫ জন উপদেষ্টা হাত মিলিয়েছেন।
গণ অধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খানের অভিযোগ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, প্রত্যেকেই হাসিনাতঙ্কে কাঁটা হয়ে আছেন। ঐক্যমত কমিশনে যে ঐক্যের চিত্র নেই, সেটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। রাশেদের বক্তব্যে এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে, সকলেই প্রায় হাত গুটিয়ে নিয়েছে। এর পিছনে কারণ বিশ্লেষণ করলে উঠে আসবে আন্তর্জাতিক চাপের কথা। যা ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলি থেকে। ইতিমধ্যেই হাসিনার দলের পক্ষে নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের তিন রাষ্ট্রদূত আসরে নেমে পড়েছেন। আরও কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ভারতে তৎপর হয়েছেন। এই আবহে সেনাপ্রধান ভারত সফরে এলে সেটা হবে গেমচেঞ্জার।












Discussion about this post