আমরা জেনে গিয়েছে সোমবার ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হাসিনাকে কী শাস্তি দিয়েছে। কী শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালকে। অনেকটাই স্বস্তিতে রাজসাক্ষী তথা প্রাক্তন পুলিশকর্তা আল মামুন। তিনি রাজসাক্ষী হওয়ায় আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রায় ঘোষণার দিন আদালত থেকে সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার করা হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে আদালত ভিড়ে ঠাসা। বনগা লোকালের মিনি সংস্করণ। আদালতে যারা বসেছিলেন তাদের মধ্যে অনেকে আবার জামাতের লোক। অনেকে আবার জিহাদি। হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা হতেই দেখা গেল আদালত উল্লাসে ফেটে পড়ল। হাততালি হাততালি আর হাততালি। থামতেই আর চায় না। বাধ্য হয়ে ক্যাঙারু কোর্টের এজলাস থেকে তাদের বাইরে গিয়ে উল্লাসের জন্য অনুরোধ করা হয়।
তারা যখন উদ্বাহু তুলে নাচছেন ঠিক সেই সময় এপারে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় হাসিনার। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথা হয়েছে দু’বার। একবার আদালত শুরু হলে, দ্বিতীয়বার আদালতের রায় ঘোষণার পর। পদ্মাপারে যারা এখন উল্লাস করছেন, তারা জানেন না ভারত কী পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই পরিকল্পনা সাউথব্লক কিছুদিনের মধ্যেই কার্যকর করবে। এখন চলছে ঘুঁটি সাজিয়ে তোলার কাজ। সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে রয়েছে ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ। দুটি ব্রহ্মোস ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাউথব্লক অনেকদিন ধরেই একটা পরিকল্পনা করছে। কারণ, তদারকি সরকারের কার্যকলাপে সাউথব্লক রীতিমতো অসন্তুষ্ট। ড. ইউনূস গত বছর থেকে একের পর এক ভারত-বিরোধী কথাবার্তা বলে গিয়েছেন। তাঁর ওই সব মন্তব্য যে উস্কানিমূলক, তা আর নতুন করে বলার দরকার নেই। সাউথব্লক কিন্তু গত ১৪ মাস ধরে এই সব সহ্য করে গিয়েছে। মাঝেমধ্যে বিবৃতি দিয়ে তদারকি সরকারের বক্তব্যের প্রতিবাদ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সরকারের মুখ বন্ধ হয়নি। এবার বন্ধ করার পথে হাঁটতে চলেছে সাউথব্লক।
সাউথব্লক আজ না হলে কাল ঢাকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করত। কেল্লা-কাণ্ড সেই প্রক্রিয়াকে আরও তরাণ্বিত করেছে। ইতিমধ্যে লালকেল্লার বিস্ফোরণ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট সরকারের ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশ সরাসরি জড়িত। যাকে বলা যায় সরকারের মদতেই হয়েছে এই রক্তস্রোত। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পর থেকে সাউথব্লক রীতিমতো ফুঁসছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, হাসিনার সাজা ঘোষণা নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া কিন্তু বেশ সংযত। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আরও একবার হুঙ্কার দিয়েছেন। বলেছেন, দিল্লির চক্রীরা পাতালে গেলেও রেহাই পাবে না।
হরিয়ানার ফরিদাবাদে শুরু হয়েছে নর্দান জোনাল কাউন্সিলের বৈঠক। এই ফরিদাবাদেই কিন্তু ঘাঁটি গেড়েছিল কেল্লা-কাণ্ডের মূল মাথারা। ভারত যে এবার আর ছেড়ে কথা বলবে না, সেটা আস্তে আস্তে স্পষ্ট হতে চলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছেন। সতর্ক করে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। পরোক্ষভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে আমাদের বাহিনীর তরফ থেকেও। বাংলাদেশ মনে করছে পাকিস্তান তাদের ঢাল হয়ে উঠবে। কারণ, যেহেতু তারা ওই দেশকে ভারতের মাটি ব্যবহার করতে দিয়েছে। ভারতের বুকে হয়েছে সন্ত্রাসী হামলা। তাই, সাউথব্লক বা সেনাসদন থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হলে ইসলামাবাদ পরিত্রাতা হয়ে উঠবে। তারা যে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখটাকার স্বপ্ন দেখছে, সেটা বলে দেবে সময়।












Discussion about this post