গত বছরের জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ অশান্ত। কেন অশান্ত, তা নিয়ে নানা মহলে কম চর্চা হয়নি। অনেকে এর পিছনে ডিপ স্টেটের একটা ষড়যন্ত্র দেখতে পেয়েছেন। সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, ঢাকার বুকে সাম্প্রতিক অতীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে এটা স্পষ্ট যে ডিপ স্টেট একেবারে সামনে থেকেই কলকাঠি নেড়েছে। কিন্তু ঘটনার অভিমুখ বদলে দিয়েছে কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। গত বছরের শুরুতেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যেতে পারে সেগুলি জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের অভিঘাতের পরিণতি। সেই ঘটনার পর বাংলাদেশের রাজনীতি বদলে গিয়েছে। তদারকি সরকারের উপদেষ্টা পদে যাঁরা ছিলেন, তাদের অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সেবাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মরত এবং প্রাক্তন সেনাসদস্যদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনা হয়েছে। তা নিয়ে বাহিনীতে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়নি। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রীতিমতো অসন্তুষ্ট। প্রথম দিকের ঘটনার নেপথ্যে যদি ডিপস্টেটের ভূমিকা থাকে, তাহলে সদ্য ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে আইএসআই-য়ের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু তারা গুপ্তচর সংস্থা, তাই তাদের সব কর্মপদ্ধতি হয়ে একেবারে গোপেনে।
কেন সবাইকে বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত আইএসআইকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে? এককথায় এর উত্তর দেওয়া মুশকিল। তবে কয়েকটি ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়ে যাবে আইএসআই –য়ের নজরে এখন বাংলাদেশ। তারা চাইছে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে। এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে হঠাৎ কী এমন হল যে পাক গুপ্তচর সংস্থার এক প্রতিনিধিদল ঢাকা গেলেন? তাদের যাওয়ার কারণ জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল। তারা সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গিয়েছেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া লালমনির হাট এবং ঠাকুরগাঁও। সেনাপ্রধান ওয়াকারের হাতে তুলে দিয়েছেন ডিমার্সে। কূটনৈতিক ভাষ্যে এর অর্থ গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর নথি। তবে এই ক্ষেত্রে সেটা একটি অন্যরকম। সেনাপ্রধানের হাতে তারা তুলে দিয়েছে স্যাটেলাইট ইমেজ। তাতে ধরা পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ওই দুই অঞ্চলে আইএসআই তাদের ঘাঁটি তৈরি করেছে। তাদের থাকার কথা ছিল তিনদিন। সফরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়িয়ে, তিনদিন থেকে চারদিন করা হয়। আর যেদিন বিকেলে তারা দিল্লি ফেরেন সেদিন সেনাপ্রধান ওয়াকার গিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করতে। গিয়েছিলেন, সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার তরফ থেকে তাঁর হাতে যে সব নথি তুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি কতটা খাঁটি।
এবার আসা যাক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) বিষয়ে। এই যে একসঙ্গে এতজন কর্মরত এবং সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাদের আইসিটির কাঠগড়ায় তোলা হল, তার পিছনে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তার ওপর চাপ তৈরি করল কারা? এ ক্ষেত্রেও পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের একটা ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। তাই, বাংলাদেশের এখন ভীষণ প্রয়োজন ভারতকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দিল্লি যেভাবে তাদের সাহায্য করেছিল, ঢাকা চাইছে এবারেও দিল্লি সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post