তদারকি সরকার ঠিক করেছিল, জাকির নায়েক বাংলাদেশে এলে তাকে রেডকার্পেট পেতে স্বাগত জানাবে। গলায় মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করবে। বাজবে ঢাক, কাঁসর, ঘণ্টা। হবে পুষ্পবৃষ্টি। সাউথব্লকের কানে যায় জাকিরের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন ‘জাকির একজন পলাতক। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজ করছে।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, জাকির যে দেশে বা যেখানেই যান না কেন সেখানাকার কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করবে। জাকির প্রসঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে উদ্বেগের বিষয়গুলি আছে, তা সংশ্লিষ্ট দেশ পূরণ করবে বলে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আশা প্রকাশ করেন।
ভারতে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের রণমূর্তি দেখে যমুনাভবনের বাসিন্দা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ঠিক করে নেন, জাকিরকে বাবা-বাছা করে হোক বা লজেন্স দিয়ে হোক, যেভাবেই হোক বোঝাতেই হবে, ভাই এখন বাংলাদেশে আসার দরকার নেই। হাওয়া খুব খারাপ। সাউথব্লক আমাদের কার্যত শাঁসিয়েছে। ওরা বাংলাদেশের নাম করেনি ঠিকই। কিন্তু তুমি তো বাংলাদেশে আসছ। তাই, এটা ধরে নিতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হওয়ার কথা নয় যে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ওই কালো মোটা বেটে লোকটা যা বলছে, সেটা আমাদের উদ্দেশ্যেই বলেছে। আমার অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ। ঘেঁটে ঘ হয়ে আছি। বাংলাদেশে এসে তোমাকে আর ঘণ্ট রান্না করতে হবে না।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, জাকিরকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর দফতরে জরুরী বৈঠক ডাকা হয়। সে বৈঠকে ‘পলাতক’ ধর্মপ্রচারকে সফর নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোনও অবস্থাতেই জাকিরকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। এমনকী জাকির জোর করে বাংলাদেশে আসতে চাইলেও নয়। বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিকের প্রতিবেদন অনুসারে, সে দেশের একটি প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত এই ধার্মিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বাংলাদেশে থাকার কথা ছিল দুদিনের। তাঁকে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার তাদের পরিকল্পনা ছিল। সাউথ ব্লক থেকে রণধীর জয়সওয়ালের মন্তব্য শুনে তাদের আর সাহসে কুলোয়নি।
ওই বৈঠকের পর তদারকি সরকারের বিদেশ দফতরের মুখপাত্র এসএম মাহবুবুল আলম সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাঁর গলার আওয়াজ শুনে বোঝা যায়, রণধীরের বার্তায় গলা শুকিয়ে কাঠ। গ্যালন গ্যালন জলের দরকার। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইসলামিক পণ্ডিত জাকিরের বাংলাদেশ সফর নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের মন্তব্য সম্পর্কে আমি অবগত। আমরা বিশ্বাস করি, কোনও দেশের উচিত নয় এই ধরনের অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়া। আমাদের আশা ভারত তাদের আশ্রয় দেবে না। ’
জাকিরের জন্ম মুম্বইয়ে। পরে ভারত থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া চলে যান। বিতর্কিত এই ধর্ম প্রচারকের বিরুদ্ধে ঘৃণা এবং বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার অভিযোগ রয়েছে। জাকিরে বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা। ২০১২ সালে জাকিরের এক বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল এফআইআর। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ঢাকার হোলি আর্টিজেন বেকারিতে জঙ্গি হামলা হয়। নাম জড়ায় জাকিরের। আর ওই ঘটনার পর এই ‘বিতর্কিত’ ধার্মিক নেতা দেশ ছাড়েন। ভারত সরকার তাকে পলাতক ঘোষণা করে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post