বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার কার্য খুব দ্রুত করতে চান। পাশাপাশি যারা বলছেন, বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন করানো হবে না, তাদের দাবি কি বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে অন্তর্বর্তী সরকার? সেই প্রশ্নই উঠছে। শেখ হাসিনাকে আদালত অবমাননা মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার ফয়সল্লা হল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গণমাধ্যমকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। ঠিক কি হল আদালতে, পাশাপাশি বিচারকার্য তড়িঘড়ি হয়ে গেল কিনা, এবং কিসের জন্য, কাকে খুশি করতে এই দ্রুততা, সেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেকগুলি মামলা চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তার মধ্যেই প্রথম একটি মামলার দ্রুত রায় ঘোষণা করে দেওয়া হল। যেখানে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। সেখানে অনেকগুলো প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বলা হয়েছে, এত দ্রুত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে দিল, এক্ষেত্রে কি সরকার কোনভাবে চাপ তৈরি করেছে? তাহলে তো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, এই রায় প্রসঙ্গে প্রশ্ন তৈরি হবে। জানা যাচ্ছে, এই মামলার অপর আসামি আওয়ামী লীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুলেরও কারাদণ্ডের নির্দেশ। সূত্রের খবর, জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় অবমাননার মামলা দায়ের হয় হাসিনা ও বুলবুলের বিরুদ্ধে। বিচারপতি মহম্মদ গোলাম মোর্তাজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় জারি করেছে বলে জানা যায়। চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, যেদিন তারা আত্মসমর্পণ করবে কিংবা পুলিশ কর্তৃক তারা ধরা পড়বেন, সেটি কার্যকর হবে।
জানা গিয়েছে, একটি অডিও বার্তা তে শেখ হাসিনা বলছেন, ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছি। সেই কথাটিকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এবং সেই মামলার রায় ঘোষণা করে সেটি প্রমাণ করে দেওয়া হল। তাজুল ইসলাম বলেন, আজ সাবমিশনে তাঁরা বলেছিলেন, শেখ হাসিনার বিতর্কিত যে কথবাকথন, সেটি পুলিশের সিআইডির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়েছে, এখানে যে দুজন ব্যক্তির কথবা কথন, তার একজন শেখ হাসিনা ও অন্যজন শাকিল আকন্দ বুলবুল। কনভারসেশনটি এআই জেনারেটেড নয়। অর্থাৎ প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়নি। এটি জেনুইন একটি কথোপকথন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যখন তার আইনজীবী সময় চাইলেন, কেন এই তাড়াহুড়ো করে রায়? পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে, সরকার আরো বেশ কিছু অভিযোগ এনেছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। যেগুলো বিচার চলছে। এই রায়ের সেই মামলার বিচারও কি প্রভাবিত হতে পারে? উঠছে প্রশ্ন। তবে এর জেরে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এর গ্রহণযোগ্যতা কমতে পারে। এবং প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অনেকে বলছেন, এটা কি কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ নেতারা একটি জনমত তৈরি করতে পারে। এবং এই তাড়াহুড়ো করে রায় ঘোষনা করা সরকারের জন্য বুমেরাং হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।












Discussion about this post