বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব কি শুধু মুখেই বড় বড় বুলি আওড়ানো। নাকি অস্থির সময়ে শক্ত হাতে দেশকে সামলানো। যদিও এখন আর তাকে দেখা যায় না। কারণ তিনি শুধু দেশ নয়, সবার সাথেই বিশ্বাসঘতকা করেছেন। ফলে সবার চোখেই তিনি বিশ্বাসঘাতক। তাই বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের কোন আশ্বাসবানীকে বিশ্বাস করছে না ভারত। উপযাচক হয়ে ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বীবেদির সঙ্গে কথা বলার পরও, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকার,কাউকেই কেন বিশ্বাস করতে পারছে না ভারত? সেই বিষয়গুলির পাশাপাশি, কোন চাপের কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন উল্টো সুরে কথা বলছেন। কেন যুদ্ধের পথ ছাড়া সব পথ বন্ধ করতে চাইছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। তারা বোঝাতে চাইছে তারা আর কূনতীতিতে বিশ্বাস রাখছে না। উল্টোদিকে ভারতও আর সহ্য করতে চাইছে না, বাংলাদেশের মৌলবাদকে। একদিকে ভারত চট্টগ্রামের ভিসা অফিস বন্ধ করল, শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকেও হুশিয়ারী দিয়েছেন জয়শঙ্কর। এখন স্পষ্ট হচ্ছে যুদ্ধের কালো ছায়া। পরিস্থিতি এমন যে বাংলাদেশ না এগিয়ে এলেও, ভারতকে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘু অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেল তিনটি বড় গারমেন্টস কারখানা। এসব দিকে নজর না দিয়ে দেশকে স্থিতিশীল করার পরিবর্তে পুরোপুরি তৌহিদি জনতার হাতে তুলে দিতে চাইছে সরকার। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, ভোট না করানোর প্ল্যান করেছে পিনাকীবাবুরা। ভোট বন্ধ করতে হাদির পর আর কাকে কাকে বলির পাঁঠা বানানো হবে তাই নিয়েই থাকছে আমাদের আজকের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনের শুরুতেই একটি বিষয় জানতে ইচ্ছা করছে ভারত সরকারের কাছে। ভারতে বাজেট হলে, আবার কি বাংলাদেশের জন্য একশো কোটি বা হাজার কোটির বড় প্যাকেজ থাকবে? যেমন ছিল আগের বাজেটে। এই কূটনীতির তু তু ম্যায় ম্যায় আর কতদিন চলবে? আর কতদিন ভারত এই অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে থাকবে যে, বাংলাদেশের হাত পুরোপুরি ছেড়ে দিলে তারা চিন অথবা পাকিস্তানের দিকে চলে যাবে? ভারত কি এখনও বিশ্বাস করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার চিন পাকিস্তানের হাতের মুঠোয় নেই। এখন আর একটা যুদ্ধ ছাড়া ভারতের সীমান্ত ঠান্ডা হবে না। ১০৭১এ ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি আছে, সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হলে, ভারত কোন অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশে সেনা অভিযান চালাতে পারে। তো দিপু দাসকে যে নির্মমভাবে হত্যা করা হল, সেই ঘটনা কি এই প্রথম ঘটছে, একই ঘটনা তো আগেও ঘটেছে। আজ যে স্বার্থের কারণে ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগে তাকে নির্মম মৃত্যু দেওয়া হল, কাল একই স্বার্থের কারণে অন্য সংখ্যালঘুদের বলা হবে তারা ধর্ম অবমাননা করেছে, তাই তাদের সম্পত্তি লুঠ করে ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়া হলে, কে আটকাবে সেই মৌলবাদকে? যেখানে প্রশাসনের আধিকারিক বলছে তারা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কোন অভিযোগ বা প্রামান পায়নি। অথচ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন দিপু দাসের ঘটনার সঙ্গে সংখ্যালঘুর অত্যাচারের কোন সম্পর্ক নেই। যেখানে ভারতের পররাষ্টমন্ত্রালয়ের মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে বলছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিষয়টি ভারত কড়াভাবে নজর রাখছে,এবং এ বিষয়ে সরকারকে সাবধান করা হয়েছে, এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে কোন অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন রণধীর জয়সওয়াল। তার উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন দিল্লীর কূটনীতিক এলাকার ভিতরে কি করে বিক্ষোভকারীরা এল? কারা বলছে এ কথা? যে দেশে একটি জানাজার পরে,উন্মত্ত লক্ষ লক্ষ তৌহিদী জনতা সংসদ ভবনের ভিতরে ঢুকে যায়, তাদের আটকাতে পারে না প্রসাশন, তারা ভারতকে প্রশ্ন করছে? আসলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আর কোন উপায় নেই, কারণ তাকে তৌহিদি ছাত্ররা হুমকি দিচ্ছে। আর সরকারের মধ্যে থাকা জামাত চাইছে, এক হাদিতে কাজ না হলে, আরও অনেক হাদিকে বলি দেওয়ার জন্য তৈরী রাখতে। ভোট না করানোর জন্য এখনও অনেক রক্ত দেখার বাকি বাংলাদেশে।












Discussion about this post