আর ইউনুস কবে দেশ ছাড়বেন – সাট্টার বাজারে এখন এই প্রশ্নটার দর সব থেকে বেশি। মহম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন, তিনি ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছেই। আর ভোট হবে সুষ্ঠ এবং অবাধ। ইউনুসের কথা শুনে নিন্দুকেরা বলছেন – আস্তে কন কত্তা। ঘুরায় হাসব।
সত্যি হাসির কথা। এমনকী রামগরুরের ছানা, হাসতে যাদের মানা, তারাও ইউনুসের কথা শুনকে ফিক করে হাসছে। সেই সব নিয়ে তর্ক বিতর্ক হতেই পারে। মূল প্রশ্ন হল ইউনূস কবে দেশ ছাড়বে? নির্বাচনের পরে কি তিনি তাঁর নিজের পেশায় ফিরে যাবেন? নাকি নির্বাচনের পদ মহামান্য ইউনূসের জন্য একটি নতুন পদ তৈরি করবে, যে পদের গালভরা নাম হবে এনভয় বা এমিরেট। সেই পদের দৌলতে ইউনূস হয়ে উঠবে গ্লোব ট্রটার বা ভূ পর্যটক। নাকি ডিসেম্বরের মধ্যেই তাকে চলে যাতে হবে। নাকি ডিসেম্বরের আগেই স্বেচ্ছায় তিনি চলে যেতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, ইউনূস না হয় মানে মানে কেটে পড়লে। কিন্তু বাংলাদেশের কী হবে? দেশের জন্য কী কোনও শুভ পরিবর্তন অপেক্ষা করছে? বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী মুনতাসির মামুন একবার বলেছিলেন, এই বাংলাদেশে সব কিছুই সম্ভব। সেটা যে নিছক কথার কথা নয়, সেটা প্রমাণ করে দিচ্ছে ঘটনাপ্রবাহ। সেটা ২০১৫ – ১৬ সালের ঘটনা। তিনি এও বলেছিলেন, আগামীতে যদি স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এমনকী মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসিতে লটকায় তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তিনটি দলের আছে – আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি। বাকিদের রাষ্ট্রপরিচালনার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। জামাতের মধ্যে বহু সৎ নেতা রয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে ব্যাংক, বহু স্কুল। সেখানে তাঁরা তাঁদের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ধরনের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার, প্রথম তিনটি দল ছাড়া বাকিদের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। ফলে, এই তিন দলের মধ্যে কেউ গোলেমালে ফাঁকতালে ক্ষমতায় আসীন হলে দেশের কী দশা হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। অতএব সময়ের ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আপাতত আর কোনও রাস্তা দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, মহম্মদ ইউনুস শনিবার ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাংলাদেশর সমস্যা কোনও ছোটখাটো সমস্যা নয়। এই সমস্যার শিকর গভীরে। তাই, সমাধান করতে গেলে সময় লাগবে। পাবলিক রেডিওকে ইউনুস বলেন, ‘দেখুন, সমস্যা একদিনের নয়। সমস্যা ১৫ বছরের। একটা সরকারের পক্ষে ১৫ বছরের সমস্যা ১৫ দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সমস্যা সমাধানের একটা পদ্ধতি রয়েছে। একটা সরকারকে সেই পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশের নানা প্রান্ত থেকেই বিক্ষোভের খবর আসছে। সেই ক্ষোভ সঙ্গত বলেই সরকার মনে করে। যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাদের একটাই দাবি – চাকরি এবং বেতন বৃদ্ধি। অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। তার জন্য দায়ী আগের সরকার। তারা মুখেও সে কথা বলছে। তারা বলছে, চাকরি হারিয়ে ফেলার জন্য তারা কোনওভাবে দায়ী নয়। আমরা ওদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছি।’
তরুণ সম্প্রদায় দেশের ভবিষ্যৎ জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বলেন, ‘আমার বয়স ৮০-য়ের উপরে। আমার সামনে আর তেমন কোনও লক্ষ্য নেই। তবে তরুণ প্রজন্মের লক্ষ্য রয়েছে। ’












Discussion about this post