বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে ঘটনার ঘনঘটা। এইবার ঢাকা ১৭ আসনের জামায়েত প্রার্থী ড: এস এম খালেদুজ্জামানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, গানম্যান সহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে খালেদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা তাঁকে আটকে দেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্টে গানম্যান নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ জানালে, দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেই সময় সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক কথা বলেন।ক্যান্টনমেন্টে জামায়াত প্রার্থীর তাণ্ডব। যদিও মুখ খুলল ওয়াকারের সেনাবাহিনী।
ওই ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। তোপের মুখে ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এস এম খালেদুজ্জামান। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার সার্বভৌমত্বের অতন্ত্র প্রহরী সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়। তবে বিষয়টি মীমাংসিত হয়ে গিয়েছে বলে জানান। তিনি আরও লেখেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সমাধান হওয়া বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ভুল-বোঝাবুঝি না হয় সেই বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন বলে জানান। এদিকে এই বিষয়ে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী জানান, ভিডিওটি একমাস আগের এবং এটা মীমাংসা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সেনা দপ্তরে কে প্রবেশ করছে বা কে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে, তার রেকর্ড থাকে সেনাবাহিনীর রেকর্ডে। সেখানে কিভাবে এই ভিডিও ভাইরাল হল? তাহলে কি সেনাবাহিনীর ভিতর থেকেই কেউ তথ্য পাচার করে দিচ্ছে? এটা ঘটলে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বিষয়। ওই ভিডিওতে দেখা যা খলিদুজ্জামান যখন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন তখন তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ভাই উনি হলেন এই আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট। ঠিক আছে?
কোন দলের স্যার? প্রশ্ন করেন ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশপথে থাকা সেনাসদস্য। জবাবে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর।
সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘বুঝতে পেরেছি স্যার। আমাদের ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে গান নিয়ে…।তখন খালিদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার(বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান) ক্ষেত্রে তো আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন। আমরা কেন যেতে পারবো না…।’
তখন সেনা কর্মকর্তা বলেন, স্যার এটা তো আমাকে বললে হবে না। জবাবে প্রার্থী বলেন,‘আপনার পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন । দিজ ইজ টোটালি, কিছু অফিসারের জন্য সেনাবাহিনী বিতর্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আপনারা বিতর্কিত করছেন। প্রয়োজনে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবো। আর সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এদিকে ঢাকা ওই ১৭ আসনে তারেক রহমান প্রার্থী। সেখানে বারবার খালেদুজ্জামান বলেছেন, তিনি বিএনপিকে হারাবেন। এর কিছুদিনের মধ্যে বিএনপি এই ভাইরাল ভিডিও হাতে পায়। এখন প্রশ্ন, ক্যান্টনমেন্ট সবক্ষেত্রেই কেন জড়িয়ে যায়? এখন দেখার, নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয়!












Discussion about this post