ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতির কথা এর আগেই সবার জানা, কারণ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের উপদেষ্টার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে পরে উপদেষ্টা প্রধান ইউনূস তার প্রথম কাজ ছিল ভারতের সাথে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছেদ করার যার জন্য হাসিনার আমলে করা ভারতের সাথে ১০ চুক্তি প্রথমেই বাতিল করেছিল ইউনূস সরকার, যার মধ্যে মূলত প্রধান ছিল দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক, আর তারই মধ্যে পাকিস্তান দ্রুতগতিতে সুযোগটি বুঝতে পেরেছে এবং ইউনূস সরকারকে করাচি পোর্ট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু সপ্তাহ আগে ভারত বাংলাদেশের জুট পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইউনূসের সরকার।বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় সম্পর্কের সঙ্কটের মধ্যে, পাকিস্তান নিজের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেছে এবং সোমবার পাকিস্তান বাংলাদেশকে একটি বাণিজ্যিক লাইফলাইন প্রদান করেছে – করাচি পোর্টের মাধ্যমে জুট পণ্য এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করার জন্য সুযোগ দিয়েছে।ভারতের উপর্যুপরি নিষেধাজ্ঞা ও সম্পর্কের অবনতির সুযোগে পাকিস্তান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যাতে করে পাকিস্তানের গোপনে উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশকে পূর্বের অবস্থায় অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের ফিরিয়ে নিয়ে আসা যা ইউনুস ক্ষমতায় থাকাকালীন খুবই সহজলভ্য বিষয় তা পাকিস্তান আগেই বুঝেছিল, যার ফলে ইউনূসের বাংলাদেশ যে পাকিস্তানের চরণে পড়তে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে এটাই যে ইউনুস আসলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে কি খেলায় মাততে চলেছে?
পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে এক অন্যরকম সম্পর্ক তৈরি করতে চলেছে ইউনূস, কারণ দুই দশক পরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে এটি প্রথম বড় ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।পাকিস্তান বাংলাদেশকে করাচি পোর্ট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ চীন, গালফ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে পারবে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সামুদ্রিক এই রুটটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, কারণ এই যাত্রা ২৬০০ নটিক্যাল মাইল দীর্ঘ এবং প্রায় দুই সপ্তাহ সময় নেয়। গত বছর প্রথমবারের মতো একটি পাকিস্তানি কার্গো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছিল, তবে এরপর খুব কম বাণিজ্য হয়েছে।এছাড়া, পাকিস্তান বাংলাদেশকে জুট ও অন্যান্য পণ্যে কর কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে, যাতে বাংলাদেশ তার জুট রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জুট উৎপাদক এবং প্রধান রপ্তানিকারক। পাকিস্তান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জুট আমদানিতে ২% কাস্টমস ডিউটি প্রত্যাহার করেছে।
বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা জানান, “পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে জুট এবং জুট পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী, কারণ বাংলাদেশ জুট এবং টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদনে শক্তিশালী। বাংলাদেশ চায় আরও পণ্য রপ্তানি করতে।”বাংলাদেশের জুট পণ্য ও রোপের ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানের এই পদক্ষেপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্ট মাসে ভারত বাংলাদেশ থেকে কিছু নির্দিষ্ট জুট পণ্য এবং রোপের আমদানি সব স্থলপথে নিষিদ্ধ করে। এর ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য খরচ বাড়ানো হয়েছে, কারণ সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ অনেক ব্যয়বহুল।
তাছাড়া ভারত বাংলাদেশের জন্য একটি ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য ভারতীয় বন্দর দিয়ে অন্য দেশে পরিবহণ করা যেত। এর ফলে বাংলাদেশের জুট পণ্য ভারতের বাজারে কম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে পড়বে।গত বছর শেখ হাসিনার শাসনামলে ছাত্র আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অবনতির দিকে চলে যায়। শেখ হাসিনা ভারতীয় মিত্র হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছিলেন, তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে দেশের বিদেশনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ইউনুস পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করছেন।এই পরিবর্তনের সুযোগে পাকিস্তান দ্রুততম সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। করাচি পোর্ট ব্যবহারের প্রস্তাবই এর অন্যতম উদাহরণ।বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় সম্পর্কের সঙ্কটের মধ্যে, পাকিস্তান নিজের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেছে এবং সোমবার পাকিস্তান বাংলাদেশকে একটি বাণিজ্যিক লাইফলাইন প্রদান করেছে – করাচি পোর্টের মাধ্যমে জুট পণ্য এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করার জন্য সুযোগ দিয়েছে। ভারতের উপর্যুপরি নিষেধাজ্ঞা ও সম্পর্কের অবনতির সুযোগে পাকিস্তান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post