ইউনূস সরকারের ওপর বাংলাদেশের মানুষ যে বীতশ্রদ্ধ, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। শুধু বাংলাদেশ নয়, চরম বীতশ্রদ্ধ ডিপস্টেট। যদিও তাদের তিতিবিরক্ত হওয়ার কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। তারা ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। তাদের স্বার্থ তো পূরণ হয়নি, উলটে বাংলাদেশ চলে গিয়েছে খাদের কিনারে। এই অবস্থায় ঢাকার আকাশে বাতাসে একটা খবর ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তবে কি বাংলাদেশে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় বসতে চলেছে। যদি বসে, তবে সরকার প্রধান কে হবেন? বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত সাত বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়ের হয় গত ২৭ অগাস্ট। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে শুনানিতে রাজি হয়। এই মামলায় জামায়াতে ইসলামির হয়ে সওয়াল করছেন শিশির মনির। সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়, সে দিকে তাকিয়ে সব পক্ষ। এই মামলার শুনানি চলাকালীন আরও একটি খবর বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আদৌ কি মামলার ফয়সালা হবে? নাকি শুনানির পর শুধু শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার নিষ্পত্তি না করে রায়দান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেবে।
এই মামলার ছোট একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ নম্বর ধারার সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করা হয়। সংবিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ওই বছরেই এর বৈধতাকে প্রথম চ্যালেঞ্জ করেন অ্যাডভোকেট এম. সলিল উল্লাহ সহ তিন আইজীবী। তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। ২০০৪ –য়ে ৪ অগাস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করেন। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে ২০১১-য়ের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের এজলাসে মামলা দায়ের হয়। শুনানির জন্য গঠন করা হয় প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সাত বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। ২০১১-য়ের ৩ জুলাই সংসদে এর পর আরও একটি সংশোধনী পেশ করা হয়, যার মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। ওই দিন সরকারের তরফে একটি গেজেট প্রকাশিত হয়।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশে হয়ে গিয়েছে তিন তিনটি নির্বাচন। ২০২৪-য়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-য়ের তরফে সংগঠনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক গত বছর ২৭ অগাস্ট রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন। বাকিরা হলেন প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ (বর্তমানে তিনি প্রয়াত), এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া এবং জাহরা রহমান। পরবর্তীকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলন পরওয়ার এবং নওগার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথকভাবে একই ধরনের আবেদন করেন।
একটি কথা এখানে বলে রাখা ভালো। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্থান রয়েছে। কিন্তু জুলাই সনদ এখনও আইনে পরিণত হয়নি। সুতরাং, সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে রায় দিলে ইউনূসের বিদায় নিশ্চিত। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে হবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে। তাহলে কী এই নভেম্বরেই ইউনূসের বিদায় নিশ্চিত। সেটা বলে দেবে সুপ্রিম কোর্টের রায়।












Discussion about this post