বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে কি আওয়ামী লীগ অংশ গ্রহণ করতে চলেছে? তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস কি ওই দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবেন। হাসিনা কি নির্বাচনে নিতে পারবেন ? এই সব প্রশ্নগুলি নতুন নয়। নানা প্রান্ত থেকে দাবি উঠছে, শুধু আওয়ামী লীগ নয়। জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলকেও কোনওভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যাবে না। গত কয়েক মাস ধরে নানা স্তরে, নানা পর্যায়ে এই নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়-য়ের একটি সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষিতে এই সব প্রশ্নের গুরুত্ব অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ করতে হয় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে ইউনূসকে পাঠানো একটি চিঠির কথাও যে চিঠিতে কাটা কাটা কথায় বলে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠ হয়, সেটা সরকারেক নিশ্চিত করতে হবে। ভোটে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে হবে। এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের তরফে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তাঁর জবাব ছিল – এই ব্যাপারে সরকার কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবে না। এই অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে সরকার কতটা চাপে আছে। সরকারের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া জয়ের সাক্ষাৎকার।
জয়ের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় গত ২৩ অক্টোবর। যে শিরোনাম দিয়ে তারা ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে, সঙ্গে যে ছবি আপলোড করে, সেই শিরোনাম এবং ছবি আমেরিকার একটি প্রথম সারির দৈনিক তাদের প্রথম পাতায় প্রকাশ করে। এই দৈনিক প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখা ভালো। যে বা যাঁরা আমেরিকার বিরাগভাজন হয়েছেন, তাদের সাক্ষাৎকার তো পরের কথা, কোনও ঘটনার প্রতিক্রিয়া কোনও হেভিওয়েট নেতার থেকেও নেওয়া হয় না। একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবোল-তাবোল কথায় বলা ওই সংবাদপত্র তাঁর কোনও খবর বা ছবি প্রকাশ করত না।
জয় যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি অনেক কথা বলেছেন। নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে জয় বলেন, সব দলের অংশগ্রহণ জরুরী। আরও একটা কথা বলেছিলেন, সেটা বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। জয় বলেছিলেন, তাদের দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির সময় দিতে হবে। এইখানে আসল রহস্য লুকিয়ে। নানা প্রান্ত থেকে চাপের মুখে পড়ে তদারকি সরকার নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল। এমনকী হাসিনা যাতে তাঁর নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য তার ওপর থেকেও তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল। তাহলে কি হাসিনা তাঁর নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, না হাসিনা তাঁর নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে। কারণ, তারা ভোটের জন্য প্রচারের সময় পাবেন না। আর আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনকে কোনও দেশ স্বীকৃতি দেবে না। ফলে, তদারকি সরকার পড়েছে মহা মুশকিলে। সরকারের অবস্থা এখন সাপের ছুঁচো গেলার মতো। গিলে এখন আর ফেলতে পারছে না। এবার ইউনূস সরকার কী পদক্ষেপ করে সে দিকে তাকিয়ে সব পক্ষ। অনেকে বলছেন, ইউনূস নিজের ভালো চাইলে সময় থাকতে থাকতে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post