পদ্মাপারের রাজনীতিবিদ শামীম ওসমানের সেই বিখ্যাত স্লোগান ‘খেলা হবে’ মনে পড়ে? রাতারাতি স্লোগান জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমজুড়ে এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে। এবার খেলা শুরু হয়েছে পদ্মপারে। এ এক অন্যরকম খেলা।
তদারকি সরকার সে দেশের মানবতাবিরোধী আদালতে সেনাবাহিনীর একাধিক প্রাক্তন ও কর্মরত সেনা সদস্যদের গুম, গুম খুন সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। দাবার ছক উলটে দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রাক্তন মেয়র তথা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনূস এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল কোর্ট বা আইসিসি) অভিযোগ দায়ের করেছেন। রোম সংবিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার ৮ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাটফোর্ডের কালাম হাইজের ল্য ভ্যালি সলিসিটরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মামলার বিষয়ে অবগত করেন ব্যারিস্টার ও সলিসিটর নিঝুম মজুমদার এবং ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম মঞ্জু। তারা ছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবং গভ ওয়াইজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস শাকির উদ্দিন। ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয়েছে – ‘ল ভ্যালি সলিসিটর, কালাম হাউজ, স্ট্র্যাটফোর্ড। ’
আর কাদের নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে?ড. ইউনূস এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ছাড়াও ওই মামলায় অভিযুক্ত দেখানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও ক্রীড়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সহ ইউনূসের উপদেষ্টামণ্ডলীর সকল সদস্য। নাম রয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা মোহাম্মদ হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদ, হাসিব আল ইসলাম, আবু বাকের মজুমদারেরও। অভিযোগপত্রের সঙ্গে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার তথ্য ও নথিপত্র জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের তরফ থেকে জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ইউনূস সরকার গত ৫ থেকে ৮ অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং পুলিশবাহিনীর ওপর নির্মম গণহত্যা, ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত করে। ’ অভিযোগপত্রে এও বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। মহিলাদের ধর্ষণ করা হয়েছে। বহু মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েক লক্ষ বাড়ি। নষ্ট করা হয়েছে সম্পদ।
এদিকে, বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়নি। দায়ের হয়েছে অভিযোগ। প্রশ্ন হল আদালতে যদি কোনও অভিযোগ দায়ের হয়, সেটাকে তো মামলা হিসেবেই দেখা হবে। কারণ, আদালত কোনও থানা নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এই মামলা গুরুত্ব দিয়ে দেখলে অভিযোগপত্রে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আদালত সমন জারি করবে। তাদের হাজিরা দিতে যেতে হবে।
এদিকে, দিল্লির একটি মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালিসিস গ্রুপ (আরআরএজি) দাবি করেছে, ইউনূসের শাসনামলে আওয়ামী লীগের প্রায় শতাধিক কর্মীকে খুন করা হয়েছে। এদের মধ্যে আবার ৪১জনকে তালিবানি কায়দায় খুন করা হয়েছে। তারাও ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আইসিসি-তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।












Discussion about this post