আরও একবার সংবাদের শিরোনামে বাংলাদেশ সেনা। এবারের সংবাদ ১৫ জন সেনাকর্তাকে নিয়ে, যাদের বিরুদ্ধে গুম, গুমখুন সহ একাধিক মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-য়ের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। সম্প্রতি এই ট্রাইব্যুনালের একটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত ধারা বলছে, আইসিটি-তে কারও বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা মাত্র তিনি যে পদে ছিলেন, সেই পদ হারাবেন। যদিও তদারকি সরকারের কোনও মন্ত্রীকে এই আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হত, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি হারাতেন তাঁর মন্ত্রিত্ব। আমলাকে পেশ করা হলে তিনি হারাতেন চাকরি। কর্মরত সেনাকর্তাকে আইসিটির কাঠগড়ায় তোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁর পদ হারাতেন। অথচ ১৬ জন কর্মরত সেনাকর্তা, যাঁদের বিরুদ্ধে মানবতা-বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাঁরা কিন্তু স্বপদেই রয়ে গিয়েছে। এটা ‘নিউজ বর্তমান’-য়ের দাবি নয়। সে দেশের আইসিটির আইনজীবী গাজি মোনোওয়ার হুসাইন তামিম-য়ের বিবৃতি। এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। সেটা কিন্তু সাদা কাগজের নয়। মানে কারও সই সাবুদ ছাড়া একটা কাগজ। সেই কাগজে সই রয়েছে আইসিটির – চিফ প্রসিকিউটরের দফতরের মহম্মদ মাসুদ রানার। সেই কাগজ সাংবাদিকদের মধ্যে বিলি করা হয়। পরে আবার ওই দফতর থেকে আরও এক দফায় বিবৃতি জারি করে বলা হয়, আইনজীবী গাজি মোনোওয়ার হোসেন তামিম-য়ের বক্তব্যের ভূল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম তাঁর মুখে কথা বসিয়ে তাঁর বলে দাবি করছে। এটা একেবারেই ঠিক নয়।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইসিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী নিয়ে। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, এটি ৫৩ নম্বর অধ্যাদেশ, তৃতীয় সংশোধনী, ২০২৫। সংশোধন করা হয়েছে একটাই কারণে। আইসিটি-তে কোনও অভিযুক্তকে পেশ করা হলে তৎক্ষনাৎ তাকে ক্ষমতা কাঠামো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ, তিনি যদিও কোনও সরকারি পদে আসীন ব্যক্তি হন, তাহলে তিনি তাঁর সরকারি পদ হারাবেন। ট্রাইব্যুনাল যদি তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে, তাহলেই তিনি পদ ফিরে পাবেন।
তাহলে যে ১৫ সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম, গুম খুন সহ একাধিক মানবতা বিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাহলে তারা এখন কী করে তাঁদের পদে রয়ে গিয়েছেন।
আইসিটি প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছিলেন আইনজীবী গাজি মোনোওয়ার হোসেন তামিম। সেই সময় এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন – ‘আপনি সেনা কর্মকর্তাদের সার্ভিং বলছেন। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ফর্মাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়া মাত্র তাদের চাকরি থাকার কথা নয়। এই ক্ষেত্রে ওই ১৫ জন সেনাকর্তাদের কী বলা হবে? চাকরিচ্যুত না কর্মরত?’ জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘যেটা আইনে বলা আছে, সেটা আইনের ব্যাখ্যা। এখন সেনা সদর দফতর সিদ্ধান্ত নেবে যে এই আইন কবে তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে। যতক্ষণ প্রয়োগ না করছে, ততক্ষণ তো সার্ভিং বলাই যেতা পারে। ’
আসল সমস্যা কিন্তু অন্যত্র। উত্তরপাড়ার সঙ্গে যমুনার বড় দূরত্ব তৈরি হয়েছে। প্রথম দিকে সম্পর্ক ভালো থাকলেও এখন সেই সব দিন অতীত হয়ে গিয়েছে। এমনও শোনা যায় যে বর্তমান সেনাপ্রধাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ফেলার একটা মাস্টারপ্ল্যানও তৈরি করে রেখেছিলেন ইউনূস।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post