জুলাই সনদ সইয়ের দিন তদারকি সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূস কী বলেছিলেন, একবার ফিরে দেখা যাক।
জুলাই সনদ সই হয় গত ১৭ অক্টোবর। দিনটিকে মহান দিন উল্লেখ করে ইউনূস সেদিন বলেছিলেন, ‘জাতি আজ এক নবজন্মের সন্ধিক্ষণে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের কারণে। বিশেষ করে ছাত্র অভ্যুত্থানের কারণে। এটার কথা চিন্তা করলে গা শিউরে ওঠে। সেটা শুধু জাতির জন্য নয়, সারা পৃথিবীর জন্য বড় রকমের উদাহরণ হয়ে থাকবে। বহু জায়গায় এটা পাঠ্যপুস্তকে থাকবে। ক্লাসরুমে আলোচনা হবে। বিভিন্ন দেশে এটা নিয়ে রাজনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা হবে। দেশের রাজনীতিকরা যে উদাহরণ তৈরি করেছেন, সেটা দেশের জন্য তো বটেই সারা পৃথিবীর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ তিনি বিশ্বাস করেছিলেন এবং জোর দিয়ে বলেছিলেন এই জুলাই সনদ দেশকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবে। কত উঁচুতে সেটা কিন্তু তিনি বলেননি। ভাষণ দিতে দিতে হয়তো বৈকালিক স্বপ্ন দেখেছিলেন যে তাঁর সাধের জুলাই সনদ দেশান্তরী হচ্ছে। কার পিঠে চড়ে সেটা অবশ্য জানা নেই।
স্বপ্ন দেখার মধ্যে তো আর দোষ থাকতে পারে না। কে না স্বপ্ন দেখে? এমনকী ঘোড়াও যে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে পারে না, কেবল দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেও দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখে। তাই, এই নিয়ে বিশেষ বলার কিছুই থাকে না। বলার থাকে জুলাই সনদ নিয়ে। এই যে ইউনূস এত গালভরা কথা বলেছেন, স্বপ্ন দেখেছেন এক নতুন বাংলাদেশের সেটার কি কোনও ভিত্তি আছে। তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে এটা ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকার পরেও কী করে একজন এমন গোঁজামিল দিয়ে হিসেব মেলাতে গেলেন, সেটা বোঝা যাচ্ছে না।
সবার আগে এটা জানিয়ে রাখা দরকার যে আইন বা সংবিধানের চোখে জুলাই সনদ-য়ের কোনও মূল্য নেই। যে কোনও দেশে আইন তৈরি করলে সেটা প্রথম সংসদ থেকে পাশ করাতে হবে। যাকে বলা হয় বিল। সংসদে বিল পাশ হলে সেখান থেকে যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে। এই বিল নিয়ে তিনি তাঁর মতামত দিয়ে ফেরত পাঠাতে পারেন। আবার কিছু বলার না থাকলে তিনি বিলে সই করলে তখন সেটা আইনে পরিণত হবে। সে দিক থেকে জুলাই সনদ একটা সাদা কাগজ ছাড়া আর কিছুই নয়। সেখানে তদারকি সরকার প্রধানের সই থাকলেও নয়। তাছাড়া বিএনপি এবং সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি কিন্তু প্রথমে বেঁকে বসে। জুলাই সনদ নিয়ে সর্বদল বৈঠকে (আওয়ামী ব্যতিত) তারা তাদের আপত্তির কথা, যাকে বলা হচ্ছে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জানিয়ে দেয়। সেটা কিন্তু রাখঢাক করে নয়। ইউনূস অবশ্য তাদের আপত্তি আমল দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি।
আর জুলাই সনদে বৈষম্য দূর করার বিষয়ে একটি শব্দ খরচ করা হয়নি। কৃষি, ভূমি সংস্কারের কোনও কথা বলা হয়নি। এমনকী বাংলাদেশ জলবায়ু যেটি বেশ ঝুঁকি, তা নিয়ে একটি শব্দ খরচ করা হয়নি। নারীদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। যে ইউনূস বুক ফুলিয়ে থ্রি-জিরোর পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন, সেই থ্রি জিরো – অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বণ নিঃসরণ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি। এই নিয়ে তাঁর একটা বই আছে, যার শিরোনাম ‘আ ওয়ার্ড অফ থ্রি জিরো’। তাহলে রইল কী?
রইল পেন্সিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post