বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনূসের সাথে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের সশস্ত্র বিভাগের প্রধান জেনারেল সাহির সামসাদ মির্জা। এই সাক্ষাতের পরেই কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস আবারও কূটনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।
ইউনুস তার সামাজিক মাধ্যমে পাক সেনাকর্তার সাথে সাক্ষাতের কিছু ছবি প্রকাশ করেন। সেই ছবিগুলোর একটিতে দেখা যাচ্ছে তিনি পাকিস্তানি সেনার জয়েন্ট চিফ্স অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির সামসাদ মির্জাকে আর্ট অব ট্রায়াম্ফ শিরোনামের একটি বই উপহার দিচ্ছেন। বইটির প্রচ্ছদে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বইটির প্রচ্ছদে একটি নকশা রয়েছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানচিত্রের অনেকটা মিল রয়েছে। নকশাটিকে বাংলাদেশের মানচিত্র বলে ধরে নিলে তাতে দেখা যাচ্ছে, উত্তরপূর্ব ভারতের অনেকটা অংশকে বাংলাদেশের ভিতরে টেনে দেখানো হচ্ছে। বিতর্কিত এই নকশার ছবি প্রকাশের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি অংশকে কী নিজেদের দিকে টেনে দেখানোর চেষ্টা করল বাংলাদেশ ? যদিও নয়াদিল্লির তরফে এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে সরকারি স্তরে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকায় ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলকে জুড়ে দেওয়ার দাবি অসত্য। এটি গণঅভ্যুত্থানের উপর রচিত একটি সচিত্র দলিল। এর মধ্যে সংকলিত হয়েছে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে অর্জিত বিপ্লবের ঐতিহাসিক চিত্র। সংকলনটি প্রকাশ করেছে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন। গ্রাফিতি সংকলনের প্রচ্ছদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাইদের পিছনে রক্তরাঙ্গা বাংলাদেশের মানচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে।
বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও। প্রচ্ছদে দৃশ্যমান মানচিত্রটি গ্রাফিতি হিসেবে অঙ্কিত হওয়ায় বাংলাদেশের মূল মানচিত্রের পরিমাপের কিছুটা হেরফের হয়েছে বলে কারও কাছে মনে হতে পারে। কিন্তু ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কোনও অংশ গ্রাফিতি মানচিত্রটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করাটা সম্পূর্ণ অসত্য এবং কল্পনাপ্রসূত। বাংলাদেশের মানচিত্রের সাথে উল্লেখিত গ্রাফিতিতে দৃশ্যমান মানচিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অঙ্কিত মানচিত্রটিতে বাংলাদেশের প্রকৃত মানচিত্র প্রায় হুবহু ভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।












Discussion about this post