৭ ডিসেম্বর আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভের দুই মেয়ে লায়লা এবং আরজু ঢাকায় এসে দেখা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। ঢাকায় তাদের আগমন এবং কোনও আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ছিল না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতির দুই কন্যার আগমন বা পরবর্তী সাক্ষাতের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা প্রকাশও করেনি। ফলে এই দুজনের ঢাকায় আগমণ এবং ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ নিয়ে একটা চাপা কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। অনেকেই দাবি করছেন, গ্রামীণ ফোনে তার অংশীদারিত্ব বিক্রি করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে থাকতে পারেন, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি সম্ভবত ইলহামের দুই মেয়ে, লায়লা এবং আরজুর সাথে আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি সিএনএন-নিউজ ১৮ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্যত সেই অভিযোগই তুলে ধরলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁর সাক্ষাৎকার যথেষ্টই গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি। তাঁদের শিরোনাম, বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘বিদেশি হাত’র ছায়া থাকায় ইউনূস পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হাসিনার ছেলে।
বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিনই হবে গণভোট। এই আবহে নিউজ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র জয় সরাসরি দাবি করলেন, মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার কি মনে হয় মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হওয়ার চেষ্টা করছেন? এর উত্তরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, না, আমার বিশ্বাস ইউনূস বাংলাদেশে তাঁর ব্যবসা বিক্রি করে আজারবাইজানের মাধ্যমে নিজস্ব তহবিল স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। তিনি দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে তার একটি বাড়ি রয়েছে। আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতির দুই কন্যা সম্প্রতি ঢাকায় একটি ব্যক্তিগত সফরে এসে তাঁর সাথে দেখা করেছেন। এরপরই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি মনে করেন এর সঙ্গে বিদেশী শক্তি জড়িত? জবাবে জয় বলেন, পাকিস্তান অবশ্যই জড়িত। আজারবাইজানের দিকটিও অত্যন্ত গুরুতর। ইউনূস তাঁর যাবতীয় অর্থ বিদেশে পাচার করছেন। প্রসঙ্গত, আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভের দুই কন্যার ব্যক্তিগত সফর এবং মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর নানা দাবি উঠে আসছে। এর মধ্যে গ্রামীণ গ্রুপে ফ্ল্যাগশিপ সংস্থা গ্রামীণ ফোনের ৩৪ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনূস। অর্থাৎ প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা আত্মস্যাৎ করতে চাইছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটুকু বলাই যথেষ্ট যে বিতর্কিত পানামা পেপার্সে লেইলা এবং আরজু আলিয়েভাকে একাধিক অফশোর কোম্পানির সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিদেশে তহবিল আত্মসাৎ এবং পাচারের জন্য অফশোর সংস্থা তৈরি করা। আজারবাইজানের টেলিকম সংস্থা আজারসেলের লভ্যাংশ বিদেশে অবৈধভাবে স্থানান্তরের সাথেও তাঁরা যুক্ত বলে অভিযোগ। এদিকে গ্রামীণফোনে গ্রামীণ টেলিকমের ৩৪.২ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। গ্রামীণ টেলিকমের অধীনে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ উঠছে, এই সম্পদগুলি বিভিন্ন অফশোর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের। এবার হাসিনা পুত্র এটাই বলতে চাইলেন। তিনি আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, সেটা হল, ইউনূস সাহেব রাষ্ট্রপতি হওয়ার চেয়ে তাঁর সম্পদ বিদেশে পাচারের চেষ্টাতেই বেশি মন দিয়েছেন। এটা যথেষ্টই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post