বাংলাদেশের জুলাই – অগাস্ট গণআন্দোলনের উপর জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের দফতর থেকে যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘে ২০০৯ – ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বপালনকারী ডক্টর এ কে আব্দুল মোমিন কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘের মহা সচিবকে। জুলাই – অগাস্ট আন্দোলন নিয়ে জাতিসংঘের যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয় থেকে সেটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বয়ানের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। এর মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে তথ্যের বলে অভিহিত করেছেন। এই রিপোর্টটির বিষয়ে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহা সচিবের প্রতি। একটা স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত হতে হবে অফিস অফ দা হাই কমিশনার ফর হিউমান রাইটস রিসেন্ট রিপোর্ট অন বাংলাদেশ।
১৪০০ জন নিহত হয়েছে এই সংখ্যাটা জাতিসংঘ কোথা থেকে পেল ? এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামীলীগ। জাতিসংঘ প্রাথমিক রিপোর্টে সাড়ে ছশো জন বলেছিল তারপর ১৪০০ জনে চলে যাওয়ায় এর কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এ কে আব্দুল মোমিন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ এই বয়ানটা তৈরির সময় আন্দোলনকারীদের তরফে যে ধরণের ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে, সহিংসতা তৈরির লোক দিয়ে যে ধরণের সহিংসতা তৈরি করা হচ্ছিল মেট্রো রেল সহ সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছিল এই সহিংসতার বিষয়টি জাতিসংঘ তার বয়ানে অনুপস্থিত রেখেছে।
এ কে আব্দুল মোমিন আওয়ামীলীগের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসচিবকে প্রশ্ন করেছেন, কীভাবে জাতিসংঘ যেসব পুলিশদের হত্যা করে তাদের মৃতদেহ প্রকাশ্যে ফেলে রাখা হল এমন ৩২০০ জন পুলিশ হত্যার বিষয়টি আওয়ামীলীগ জাতিসংঘের কাছে চিঠিতে জানতে চেয়েছে এত বড় বিষয়টি জাতিসংঘ কীভাবে এড়িয়ে গেলো ? তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এমন ২৫ জন সেনা কর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা দায়ের করেছে যাদের মধ্যে অনেকে জাতিসংঘের মর্যাদা রক্ষা করে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। মহাসচিবের এখন উচিত যেই অফিসাররা জাতিসংঘের পতাকার সম্মান রক্ষা করলেন সেসব সামরিক অফিসারদের জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশনারের এমন ভুলে ভরা রিপোর্টের ভিতিত্তে গ্রেফতার করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। মহাসচিবের উচিত দ্রুত এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বহু বিচারপতিকে অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছে জাতিসংঘ তার এই রিপোর্টে কী করে সেইটা এড়িয়ে গেলো ? এছাড়াও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন এ কে আব্দুল মোমিন এবং আওয়ামীলীগ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভুত্থানের জেরে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে এসে তার সামাজিক মাধ্যমে কর্মীদের উদেশ্যে একের পর এক অডিও বার্তা দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যদিও পরে তার গলায় দেখা গেছে অন্য সুর। পাশাপাশি ইউনুস ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে অনুরোধ করেছেন হাসিনা যেন ভারতে বসে কোনও ধরণের যোগাযোগ না করে। হাসিনা তার সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া অডিওতে বলেছেন, আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে কীভাবে নির্বাচন হয় দেখবো।












Discussion about this post