অশান্তি আর বাংলাদেশ যেন পয়সার দুপিঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে শান্তি মানে অরণ্যের রোদন। বাংলাদেশের সেনা নিবাস ঢাকায় অবস্থিত ক্যান্টনমেন্ট এখন আলোচনার কেন্দ্রের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে কর্মরত ১৫ সেনাকর্তার বিচার প্রসঙ্গ আরো আগুনে ঘি ঢেলেছে। ক্যান্টনমেন্টের প্রতিটা রাত কাটছে চরম আতঙ্ক একরাশ হতাশা এবং চিন্তা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান ও তার সেনা কর্মকর্তাদের।।দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হওয়ার অপরাধে ১৫ সেনা আধিকারিকের গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেই ক্ষোভ জন্মাচ্ছে। সেনা আধিকারিকদের গ্রেফতারের খবর ঘোষণার পরেই ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন সেনাবাহিনীর জওয়ান ও আধিকারিকরা।আটক আধিকারিকদের মুক্তির দাবিতে বিদ্রোহও ঘোষণা করেছেন তাঁরা। আর ওই বিদ্রোহের পরেই সেনা সদর দফতর ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে গা ঢাকা দিয়েছেন হাসিনা ঘনিষ্ঠ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে কুমিল্লা সেনা ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। তবে সেখানেও যে তিনি শান্তিতে দিনযাপন করতে পারছেন না তা বলাইবাহুল্য। সেনাপ্রধানের অবস্থান নিয়ে কিছু জানাতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতর। তবে যেটুকু জানা যাচ্ছে বিক্ষুব্ধ সেনা কর্মকর্তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সেনাপ্রধানকে ২৪ ঘন্টা পাহারায় রয়েছে সেনা কমান্ডো।গত বছরের ৫ অগস্ট সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামানের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎনকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তার পরেই সেনাবাহিনী থেকে মুক্তিযোদ্ধাপন্থী আধিকারিকদের বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে খুন-অপহরণ সহ একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। কেউ কেউ মনে করছেন ইউনূস সরকার শেখ হাসিনাকে ছুঁতে না পেরে যত দোষ নন্দ ঘোষ রূপী বাহিনীর উপরেই হামলে পড়েছে।বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তরফে গত ৮ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ অনুসারী ২৫ প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে তাঁরা হলেন ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল যিনি ইতিমধ্যেই অবসর গ্রহণ করেছেন, আকবর হোসেন ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল তিনিও এরমধ্যে অবসর গ্রহণ করেছেন।আকবর হোসেন, ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাইফুল । ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম, ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হক।
ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নিয়ে ইতি মধ্যেই চরম অশান্তি শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশে।সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল এমএইচ হাকিমুজ্জামান ঢাকার সেনানিবাসে সংবাদ সম্মেলনে ১৪ কর্মরত আধিকারিক সহ ১৫ জনকে গ্রেফতারের কথা জানান। আর তার পরেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে সেনা জওয়ান ও আধিকারিকদের মধ্যে। এবং ক্যান্টনমেন্টেও এক গোপন আলোচনা শুরু হয়ে যায় আবার এও জানা যায় সেনা কর্মকর্তারাই দুই পক্ষের বিভক্ত হয়ে যায় একপক্ষ জামায়াত পন্থী এবং অপরপক্ষ মুক্তিযোদ্ধা তথা বঙ্গবন্ধু মুজিব ও শেখ হাসিনা পন্থী হয়ে দাঁড়ায়। এরই মধ্যে সবার নজরেই রয়েছেন জেনারেল ওয়াকার। কারণ তিনি সেনাপ্রধান সেনাদের দুঃখ যন্ত্রণা দুর্দশার কথা জানার বা তাসমাধান করার মালিক তিনি কাজেই বিচারে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আঙ্গুল দিয়ে সরাসরি সেনাপ্রধানের দিকেই থাকবে তা বলাই বাহুল্য।পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, দেশ ছাড়লে পদ হারাতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দিল্লি ও সৌদি আরব সফর বাতিল করে দিয়েছেন। ১২-১৪ অক্টোবর ভারত সফরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। দিল্লি থেকেই সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। তবে দুই সফর বাতিল করলেও গত কয়েকদিন ধরে জেনারেল ওয়াকারের কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ঢাকা আছেন নাকি ঢাকা ছেড়ে অন্য কোন সেনানিবাসে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা চলছে। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীরই একাংশের ভিতরের খবর প্রাণ বাঁচাতে কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জেনারেল নাজিমউদ্দৌলার শরণাপন্ন হয়েছিলেন ওয়াকার। ঢাকার সেনা সদর দফতর ছেড়ে কুমিল্লা সেনা ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরেই নিজের ঘনিষ্ঠ মিলিটারি অপারেশনসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলাকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে কুমিল্লার জিওসি করেছিলেন ওয়াকার। কাজেই গুরুর সমস্যা হলে শিষ্যের কাছে আসবেই তা তো খুব স্বাভাবিক।
তির্যক ভঙ্গিতে ইউনূস অন্যদিকে গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনী এমতবস্থায় কুল রাখি না শ্যাম রাখি তাই নিয়েই বেজায় চিন্তায় সেনাপ্রধান।












Discussion about this post