‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ বর্তমান বাংলাদেশে জাতীয় সংগীতটি বড়ই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। আশা করি টিম নিউজ বর্তমানের দর্শকরা এই বিষয়ে কোন দ্বিমত পোষণ করবেন না। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের এইরূপ উলঙ্গ চিত্র মনে হয় না কেউ আগে কখনো দেখেছেন। সময়ের গতিতে কালের পরিবর্তনের নিয়মে বাংলাদেশের শাসনভার এখন ইউনূস নামক মৌলবাদীটির হাতে। আর তাতেই দেড় বছরের মাথায় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা বড় বড় মেগা চলচ্চিত্রের সিরিজকেও হার মানাবে। ১৯৭১ পরাধীন থেকে স্বাধীনতার স্বাদ এবং বাংলাদেশের জন্ম যে পরিবার তার থেকেও বলা ভালো যে মানুষটির হাত ধরে মুজিবুর রহমান। জাতির কাছে তিনি পরিচিত জাতির জনক এবং আরো একটি নামে পরিচিত বঙ্গের বন্ধু অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু নামে। যদিও আছে বলার থেকে ভালো ছিল বলাটাই বর্তমানে শ্রেয় কারণ ইউনূসের কুচক্রে আজ সে সব অতীত। চক্রান্তবাজ ইউনূস মুছে ফেলতে চায় বাংলাদেশের সংস্কৃতি বাংলাদেশের ইতিহাস। তাই বাংলাদেশের স্কুলের পাঠ্য বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে থাকা ‘বঙ্গবন্ধু’ কথাটি বাদ দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস ও তার অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছর ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসেই পাঠ্যবই থেকে মুজিবের জাতির পিতা শিরোপা বাতিল করে দিয়েছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশে বাজারে এসেছে নতুন নোট।তাতে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রাখা হয়নি। ইংরেজি নতুন বছরের মুখে স্কুলে নতুন পাঠ্য বই দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক পর্ষদ। ক্লাস টেনের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ে দেখা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটিই উধাও। ক্লাস এইটের জন্য ছাপানো ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ের ২১ নম্বর পাতায় শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের উল্লেখ আছে বটে। সেই সংক্রান্ত রচনায় পাঁচ জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে বঙ্গবন্ধু কথাটি লেখা ছিল। এবারের নতুন বইয়ে তা নেই। শুধু এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লিগের সভাপতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ব্যাস এখানেই ইতি ঘটিয়েছেন জাতির জনক মুজিবুর রহমানকে ইউনূস প্রশাসন।
‘বঙ্গবন্ধু’ মুজিবের রাষ্ট্রীয় শিরোপা ছিল না। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি লাভ করেন। পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাঁর সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে। সেখানে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। এই সময়ের তরুণ নেতা তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। এবং ঘটনা ক্রমে কালের নিয়মে সেই বঙ্গবন্ধু ইউনুসের রাজত্বের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের মুখে মুখে মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু নামেই জনমুখে প্রচারিত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান ইউনুসের রাজত্বে সেই শিরোপাটিকেও নস্যাৎ করে দেয়া হলো। শুধু তাই নয় গত বছর বাংলাদেশ সরকার হাইকোর্টের একটি মামলায় জানিয়েছে তারা শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা বলে মানে না। তার জন্মদিন ১৭ ই মার্চের ছুটিও বাতিল করেছে ইউনূস সরকার। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে এখনো শেখ মুজিবকে জাতির পিতা বলে উল্লেখ করা আছে। এছাড়া সরকারিভাবেও তাঁর এই শিরোপা বাতিলের কোন নির্দেশিকা অফিসিয়ালি জারি না হলেও সে দেশের নতুন পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা শব্দ দুটি মুজিবুর রহমানের নামের আগে থেকে মুছে ফেলাটা বোঝাই যাচ্ছে দেশকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছেন ইউনূস।
বাংলাদেশী হওয়া মামলাটিতে ইউনূসের বাংলাদেশের সরকার অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে জানান ‘জয় বাংলা’-কেও তারা জাতীয় স্লোগান বলেও মনে করে না। কারণ ইউনূসের মতের জয় বাংলা আওয়ামী লীগের স্লোগান তাই এটি জাতীয় স্লোগান হতে পারে না।গত বছর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সুদীর্ঘ স্ট্যাচুটিও বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাদ যায়নি ধানমন্ডিতে অবস্থিত তার বাড়িটিও। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের নোট থেকে মুজিবের ছবিও বাদ দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি।
সার্বিকভাবেই বোঝা যায় কি চাইছে ইউনূস। যে মানুষটি বাংলাদেশের জন্মের জন্য নিজের প্রাণ বলিদান দিয়েছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থেকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা পাওয়া বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশে মানুষের কাছে জাতির পিতা আজ ইউনূসের নজরদারিতে সেই মানুষটির বাংলাদেশে আর কোন অস্তিত্বই টিকে থাকল না?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post