জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি বলেছেন, আমরা স্বৈরাচার হাসিনাকে হটিয়েছি, আর কোনও নব্য স্বৈরাচারের স্থান এ বাংলার মাটিতে হবে না। কিন্তু ঘটনাচক্রে তার উল্টোটাই দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের মাটিতে স্বৈরাচারী শাসন পুরোদমে আছে। প্রকাশ্য রাস্তায় গণধোলাই চলছে, চাঁদাবাজি ও তোলাবাজি চলছে। আর কে বা কারা করছে, সেটাও স্পষ্ট। যদিও সম্প্রতি ঢাকার রাস্তায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে ইট ও পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করার পর এর যাবতীয় দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। কিন্তু আদৌ কি তাই? একটি বা দুটি ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী হতেই পারে, তা বলে সব ঘটনার জন্য নয় মোটেই। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি জনগণের তাড়া খেয়ে পালতে বাধ্য হলেন। কেন? কি কারণে তাঁকে ঘিরে মারমুখী হলেন জনতা? সেটাই এখন প্রশ্ন।
বাংলাদেশে এখন এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীরাও নিরাপদ নয়। দিকে দিকে এনসিপি নেতাদের তাড়া খেতে হচ্ছে। দাবি, বুধবারও বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশ শেষে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এদিন দুপুর ৩টের কিছু আগে তাঁদের সমাবেশ শেষ হয় গোপালগঞ্জে। সেখানে অংশ নিয়েছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এখান থেকে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে চৌরঙ্গীর মোড় এলাকায় হামলা চালানো হয় বলেই অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই ভআবহ হয়ে পড়ে যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে শূন্যে গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাহারায় এনসিপির নেতাদের শহর থেকে বাইরে বের করার চেষ্টা করা হয়। যদিও এদিন ব্যাপক হামলার মুখে তাদের আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হওয়ার জোগার হয়েছিল বলেই জানা যায়। সূত্রের খবর, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রাকে’ কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে উত্তেজনা চরমে। এনসিপি নেতাদের দাবি, তাদের কর্মসূচি বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা প্রথমে পুলিশের ওপর হামলা করে, পরে তাঁদের গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর চালায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। এই হামলার দায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপানো হলেও প্রশ্ন উঠছে, তাঁরা কিভাবে এতটা সংগঠিত হল?
আসলে এবার পাল্টা তাড়া খেতে শুরু করেছেন এনসিপি নেতারা। যারা জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ছিলেন। কিন্তু বিগত এক বছরে তাঁরা বাংলাদেশজুড়ে ব্যপক চাঁদাবাজি, তোলাবাজি ও মব জাস্টিসের জন্য অভিযুক্ত। সাধারণ মানুষ অতিষ্ট তাঁদের ব্যবহার ও আচরণে। ফলে বিগত কয়েকদিন ধরেই তাঁরা জনতার সম্মুখে প্রতিহত হচ্ছিলেন। এখন প্রকাশ্যে তাড়া খাচ্ছেন বলেই খবর। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার পাল্টা প্রতিরোধ গড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তাঁরা বিগত সময়ে ছোট ছোট মিছিল ও লিফলেট বিলি কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ বাংলাদেশে এই মূহূর্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ। তাই কিছুটা সমঝে চলছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলটি। এবার তাঁরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এবং মূল টার্গেট জাতীয় নাগরিক পার্টি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশে একটা রাজনৈতিক গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এবার কি সেটাই হতে চলেছে?












Discussion about this post