বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রায় ১০মাস আগে। ১০ মাস কাটতে না কাটতেই বা জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩ মাস কাটতে না কাটতেই ছাত্রনেতা এবং সমন্বয়করা বড় বিপর্যয়ের মুখে। তাদের পরাজয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। এবং যে মবের মধ্যে দিয়ে তারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া গুলি করে আসছিল, সেই মবের কাছেই পরাজয় স্বীকার করছে। এই কথাটা এনসিপি বা সাবেক ছাত্রনেতাদের বক্তব্য। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসাবে ঢাকা সিটি করপোরেশনে গেজেট ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে ভিট্টি করা হয়েছিল, সেটা খারিজ হয়ে গিয়েছে। এমনকি ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসাবে শপথ নেওয়াতে আর কোনও বাধা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আর সেই বিষয়ে ছাত্রনেতা সারজিস আলম জানিয়েছেন, মবের করে রায় নেওয়া গেলে হাইকোর্টের দরকার কি! অথচ যারা এই কথাটি বলছে, তারা বুধবারও একটি মবের চেষ্টা করেছিল। নির্বাচন অফিস ঘেরাও করেছিল। তাদের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে ছাত্রনেতা বা সমন্বয়রা একটি ধারণার মধ্যে রয়েছেন যে তারা যা চাইবে, তাই হয়তো মেনে নেওয়া হবে। আর এই সমস্ত জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের পরিকল্পনা একেবারে বোঝা যাচ্ছে। ফলে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
ঠিক যে মুহূর্তে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে উত্তাল বাংলাদেশ, ঠিক তখনই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মবের বিরুদ্ধে কথা বললেন। পাশাপাশি মানবিক করিডোর বন্দর এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেন। তারপরই বাংলাদেশে শুরু হল একটু অদ্ভুত পরিস্থিতি। বিএনপিও জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনও মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন তারা প্রত্যাহার করে নেবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে বিএনপি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল। কাজেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে একত্রিত ভাবে রাস্তায় নামলে, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে বাধ্য। ফলে সাময়িকভাবে সাধারণ মানুষকে দ্বন্দের মধ্যে রাখলেও পাকাপাকিভাবে তা করা যায় না। তারমধ্যে আবার মহম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে চাইছেন বলে খবর। এখানেই রাজনৈতিক মহল বলছে, যখন দেশের বিপর্যয়, তখনই সমস্ত ছেড়ে পালিয়ে যেতে চাইছেন তিনি। ছাত্র নেতারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন বলে খবর। ঠিক এই ধারণাটাই তৈরি হয়েছিল কয়েক মাস আগে। আর তখনই যদি ছাত্র নেতারা এবং সরকার মিলে গোটা দেশটিকে আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারতো, তাহলে হয়তো এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। কিন্তু এখন যখন সেনাপ্রধান বলছেন প্রস্তুত, তখনই মোহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের ইচ্ছে, যা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে বাংলাদেশে।
এর মধ্যে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেসবুকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। তার ফেসবুক পোস্টটি আবার শেয়ার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ফলে বোঝায় যাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের অন্দরে একটি গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাহফুজ আলম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ব্যক্তির আদর্শ সম্মান ও আবেগের চেয়ে দেশ বড়। এখানে আবেগ বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন তিনি? মোহাম্মদ ইউনুস যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন, সেটাকে অভিহিত করার চেষ্টা করছেন নাকি তাদের রাজনৈতিক দল একের পর এক যে কাজ করছে, তাকে আবগ বলছেন? তিনি লিখেছেন, দেশ প্রেমিক শক্তির ঐক্য অনিবার্য। আগেকার যেকোনও বক্তব্য বা শব্দ চয়ন যা বিভাজনমূলক ছিল, সেগুলির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সরকারে আর একদিনও থাকলে অভ্যুত্থানের সকল শক্তির প্রতি সম্মান এবং সংবেদনশীলতা মেনে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের শত্রুরা ঐক্যবদ্ধ এবং আগ্রাসী। সর্বভৌমত্ব এবং সকল প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে। গত জুলাই আন্দোলনে যারা ছিলেন তাদের জন্য এটা পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সবাইকে উত্তীর্ণ হতে হবে।
এদিকে এটাও শোনা গিয়েছে, মোহাম্মদ ইউনুস ছাত্র নেতাদের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। সেই জায়গা থেকে মাহফুজ আলমের এই পোস্ট কিনা, সেটা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করার চেষ্টা করছেন।












Discussion about this post