কিসসা কুর্সিকা। তাই, বাংলাদেশের ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক পটচিত্র। একদিকে আওয়ামী লীগ, অপর দিকে এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত। তাদের পাশে রয়েছে বাংলাদেশের ছোটো ছোটো রাজনৈতিক দল। রয়েছে ইসলামী মৌলবাদী শক্তি। কিছুদিন আগে আমরা দেখেছিলাম এরকম একটি চিত্র – এনসিপি, বিএনপি এবং জামায়াত একে অপরের গলা জড়িয়ে ধরে রয়েছে। কিন্তু কিসসা যেখানে কুর্সির সেখানে তো লডা়ই হয় শেয়ানে শেয়ানে। আওয়ামী লীগের পরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপি। তাদের নিজস্ব একটা ওজন রয়েছে। সেটা থাকা স্বাভাবিক। তাই, তাদের পাশে যারা ছিল, যেমন এনসিপি, জামায়াত তারা চেষ্টা চালিয়েছিল তারেকের থেকে যত বেশি সংখ্যক আসন ছিনিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু সেই চেষ্টা তাদের ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, এখন আর তারা বিএনপির পাশে নেই। তারা এখন একা। বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাঁকে ঘটা করে বরণ করবে। তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিল বাকিরা।
এদিকে, এই তপ্ত আবহে ফের জুলাই সনদ নিয়ে সরব হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে যে বিষয়গুলি আছে, সেই সব বিষয়ে কয়েকটি দলের তরফ থেকে নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেগুলিকে বিবেচনায় আনা জরুরী। যে সমস্ত রাজনৈতিকদল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, তারা তাঁদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ’ তিনি জোরের সঙ্গে গণভোটের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। বলেন, ‘জনগণের সম্মতি নিশ্চিত করার সময় এই সব ভিন্ন মতকে যেন যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। গণভোটের সেটাই হবে মূল উদ্দেশ্য। ’
আলী রীয়াজ আরও জানিয়েছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মৌলিক একটা ঐক্যমত তৈরি হয়েছে। কমিশন এখন চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণের কাজ করছে। একটা বিষয় স্পষ্ট যে আমরা সকলেই গণভোট ইস্যুতে এক জায়গায় আসতে পেরেছি। ’ তিনি এটাও বলেছেন, জুলাই সনদের যতগুলি সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেই সব প্রস্তাব পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ যদি ২৭০ দিনের মধ্যে সাংবিধানিক পরিষদের মধ্য দিয়ে অনুমোদন না করলে সেগুলি স্বাভাবিকভাবেই সংবিধানে ঢুকে যাবে।’ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তদারকি সরকার গণভোটের দিকেই এগোচ্ছে। এই ইস্যুতে ইউনূসের পাশে রয়েছে জামায়াত এবং এনসিপি। বিএনপি পড়েছে ফাঁপড়ে। সেটা বোঝা যাচ্ছে তারেকের আশ্চর্য নীরবতা।
এটা বেশ লক্ষ্য করার মতো যে তারেক রহমান নির্বাচন নিয়ে অতীতে বেশ কয়েকবার সরব হয়েছিলেন। কিন্তু তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস লন্ডনে তার সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর (তারেকের) আর গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারেকের এই নীরবতা তুলে দিচ্ছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। তাহলে কী তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে তাঁর এমন কিছু সমঝোতা হয়েছে, যে সমঝোতা তারেককে চুপ থাকার কথা বলেছে? এমনকী দলের অন্য কোনও নেতারও মুখে গণভোট বা জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কিছু বলতে শোনা যাচ্ছে না। এমনকী জামায়াতও গণভোটের দাবিতে সওয়াল করতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, দরকার হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই গণভোট পিছিয়ে দেওয়া যাবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post