গত আগস্টে যখন ছাত্রদের নেতৃত্বে একটি আদর্শবাদী আন্দোলন শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করে , তখন লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী গণতন্ত্রের আসন্ন পুনরুজ্জীবন নিয়ে উৎসাহিত ছিলেন। অর্থাৎ দেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়, নতুন অন্তরবর্তী সরকার গঠনের ১০ মাস পর,সেই সরকার সেই বাংলাদেশে নাগরিকদের হতাশ করেছে যারা অবিলম্বে নতুন নেতাদের ভোট দিতেও চেয়েছিলেন সেইসময়। এখন এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস, যদি তাকে তার কাজ চালিয়ে যেতে এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যথার্থ সময় না দেওয়া হয়, সেই কারণেই নাকি মোহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
গত বছর অগাস্ট মাস থেকে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশে যতদিন না যত নির্বাচন সংঘটিত হয় ততদিনে দেশের যে সমস্ত সংস্কার প্রয়োজন তার প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই মান্যতা দেওয়া হতো । গণহত্যায় যখন ঢাকার রাস্তায় রক্তাক্ত পরিস্থিতি তখন অন্তর্বর্তীকালীন তদারকী সরকারে মোঃ ইউনুস কে এই সরকারের মাথায় বসানো হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসে ইউনূসের সহযোগীরা বলছেন যে দেশের বৃহত্তম বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি উদীয়মান জোটের কারণে তিনি ব্যর্থ বোধ করছেন, যার ফলে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে এনেছিলেন ইউনুস। অনেকেই সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন পরিকল্পনাকে বিলম্বিত করছে।
বৃহস্পতিবার, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস একপ্রকার হুমকি ও হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যদি তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন না পান, তাহলে তিনি পদত্যাগ করবেন।
তাঁর সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান প্রধান উপদেষ্টা,ইউনূস পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে একটি ভাষণের খসড়া তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছিলেন। অন্যান্য উপদেষ্টারা তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হন যে তাঁর পদত্যাগ বাংলাদেশকে আরও অস্থিতিশীল করবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ ইন্স্তার পদত্যাকে ইচ্ছে প্রকাশ করলে,বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছিল হয়তো এই সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আনা ইউনূসের নতুন কোন নাটক। আর সেই আশঙ্কা হয়তো কিছুটা সত্যি, কারণ, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আপাতত পদত্যাগ করছেন না। এমনটাই জানালেন সে দেশের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। শনিবার ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ইউনূস। সেই বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের ওয়াহিদউদ্দিন জানিয়েছেন, ইউনূস এবং অন্য সকল উপদেষ্টাই স্বপদে বহাল থাকছেন। কেউ পদত্যাগ করছেন না। অর্থাৎ ক্ষমতা লোভী ইউনুস তার ক্ষমতার সিংহাসন ছাড়ছেনা।
তবে আইন-শৃঙ্খলার অবনতিতে বিশৃঙ্খলা জর্জরিত বাংলাদেশ। মহম্মদ ইউনূস, যিনি ব্যক্তিগতভাবে দেশের সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উভয়ের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন, সেইসঙ্গে নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থনের অভাবও রয়েছে।
ইউনূস পূর্বে জানিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ আগামী বছর জুনের মধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে, কিন্তু তিনি কোনও স্পষ্ট সময়সীমা দেননি। তিনি তার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন না যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু ইউনু একের পর এক যুক্তি সামনে এনে যে নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়েছে তা হয়তো কাররই অজানা নয়।












Discussion about this post