‘হীরক রাজার দেশে’ ছবির এই দৃশ্যটি নিশ্চই সকলের মনে আছে।
রাজসভায় বিজ্ঞানী তার যন্তরমন্তর ঘরে তৈরি ফুল রাজাকে উপহার দিলে, রাজা প্রশ্ন করেন – আহা কী সৌজন্য, এই ফুল কি আমার জন্য?
এই দৃশ্যপট তৈরির কারণ পাক সেনার একটি দল বাংলাদেশ সফর। সরকারিভাষ্যে বলা হচ্ছে, এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। বিষয়টি একেবারেই সৌজন্য নয়। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই তারা ঢাকা গিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ডাইরেক্টর জেনারেল অব জয়েন্ট স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবাস্সুম হাবিব। তারা ঢাকায় পা রাখে গত সোমবার। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনার আর্মড ফোর্স ডিভিশনের আমন্ত্রণে তারা ঢাকায় গিয়েছে। এই প্রতিবেদন যেদিন লেখা হচ্ছে সেই দিন ভারতের একটি জাতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। আসিফ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সামা টিভিকে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কি তিনি মনে করেন? জবাবে খাওয়াজা আসিফ বলেন, ‘সম্ভাবনা নেই একথা একেবারেই বলা যাবে না। সেই সম্ভাবনা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যাচ্ছে না।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘আমি উত্তেজনা চাই না। কিন্তু ঝুঁকি (যুদ্ধের) রয়েছে। সেটা আমি অস্বীকার করছি না। আর যদি যুদ্ধের প্রসঙ্গ ওঠে তাহলে বলব আল্লাহর আশীর্বাদে আমরা এবার অতীতের থেকে আরও ভাল সাফল্য পাব। ’
তাঁর এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে ভারতের স্থলসেনা প্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য। জেনারেল দ্বিবেদীকে বলতে শোনা যায়, ‘ভারত এবার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এবার অপারেশন সিঁদুর ১.০- এর সময়ে যে সংযম দেখিয়েছিলাম তা দেখাব না। এবার আমরা এক ধাপ এগিয়ে যাব এবং এমনভাবে কাজ করব যা পাকিস্তানকে ভাবতে বাধ্য করবে যে তারা বিশ্ব মানচিত্রে থাকতে চায় কি না।’
শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশও সাম্প্রতিক অতীতে ভারতকে নানাভাবে হুমকি দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ভারতের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। আমি প্রার্থনা করি এরা যেন ঢুকে পড়ে। তখন আমাদের ৫০ লক্ষ যুবক ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এটা ধরে নেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক হবে না যে পাকিস্তান সেনার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ গিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই। আর পাকিস্তান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর জামায়াত নেতার মন্তব্য দ্বিতীয়বার উল্লেখ করার দরকার নেই। আর পাকিস্তানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকেই ভারতের বিরুদ্ধে যু্দ্ধের জিগির তুলছেন। ইউনূস তো ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। যদিও সাউথব্লক কড়া ভাষায় সেই সব মন্তব্যের জবাব দিয়েছে।
সুতরাং, পাকিস্তান সেনার এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নেহাতই সৌজন্যমূলক নয়, তা নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। মুশকিলে পড়েছেন সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। নানা দিক দিয়ে চাপে রয়েছেন তিনি। চাপ সাউথব্লকের। চাপ রয়েছে ডিপ স্টেটের। ভারতও বিশ্বাস করে পাকিস্তান সেনার দিল্লি সফর একেবারে সুউদ্দেশ্যে নয়। আসল পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নানা দিক দিয়ে চাপে পড়েছে। আর তাদের কূটনৈতিকভাবে চাপে ফেলেছে সাউথ ব্লক। আর তার প্রতিশোধ নিতেই তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার নীল নকশা তৈরি করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post