মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আগামী ৩ মার্চ দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে আসছেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। পল কাপুরের দিল্লি ও ঢাকা সফর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তিনি কবে আসছেন তা নিয়েই মূলত জল্পনা চলছিল। অবশেষে জানা যাচ্ছে তিনি মার্চের ৩ তারিখ ঢাকায় পদার্পন করছেন। যদিও ঢাকা পৌঁছনোর আগে তিনি দিল্লিতে থাকবেন। দিল্লিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দিল্লি হয়ে ঢাকা আসার অর্থই হল বাংলাদেশ ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই ঢাকায় যাবেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এখন বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে এই মুহূর্তে খুব একটা মাথা ঘামাবে না। ফলে দিল্লির সিদ্ধান্তই চুরান্ত হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগের বিষয়ে কি কোনও সিদ্ধান্ত হতে পারে? উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছিলেন দলের শীর্ষ নেত্রী শেখ হাসিনাও। ওই বৈঠকেই প্রথমবার বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতৃত্বকে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আপনারা মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে দেশের ময়দানে। তিনি কোন বার্তা পেয়ে দলীয় নেতৃত্বকে এরকম প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন সেটা নিয়েই শুরু হয়েছিল জল্পনা। এখন মনে করা হচ্ছে, পল কাপুরের ভারত সফরে আসার খবর এবং দিল্লি থেকে কোনও বার্তা পেয়েই মানসিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানেই তিনি জানিয়ে দেন পল কাপুরের আগমনের বিষয়টি। তাঁর সফরসূচি নিয়েও আলোচনা হয় ওই সাক্ষাতে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং শান্তি ও উন্নয়নের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পল কাপুরের ঢাকা সফরের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে ভারত চাপ বৃদ্ধি করছে। দিল্লিতে পল কাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনায় আওয়ামী লীগের বিষয়টিও তুলবে নয়া দিল্লি। উল্লেথ্য, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে চলেছে আগামী ১২ মার্চ। তার আগেই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নিশ্চিত করে ফেলতে চাইবে ভারত সরকার। মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে যে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল। সেগুলি নিয়ে প্রথম অধিবেশনেই আলোচনা হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা নির্বাহী আদেশ সংসদে পাস না করালে সেগুলি স্থায়ী আইনে রূপান্তরিত হবে না। যেটা জানা যাচ্ছে, তারেক রহমানের সরকার হয়তো ওই অধ্যাদেশগুলি আলোচনার টেবিলেই তুলবে না। তবে জামায়াত ও এনসিপি প্রস্তাব তুলতে পারে। সে কারনেই পল কাপুরের ঢাকা সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।












Discussion about this post