একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখা যাবে নিউ ইয়র্কে ইউনূস বাহিনী আক্রান্ত হওয়ার খবরে বেশ খুশি পিনাকী, ইলিয়াসরা। এই কিছুদিন আগে যাঁরা দম মেরে গিয়েছিল, তারা আবার নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে। খুশি হওয়ার আসল কারণ কিন্তু স্বার্থে সংঘাত। বাংলাদেশে এনসিপির দাদারা এখন আর ইলিয়াস-পিনাকীদের পছন্দ করছে না। তাদের কথা মতো কাজ করছে না। তাই, সেই দলের কাউকে হেনস্তা হলে পিনাকী, ইলিয়াসরা যে খুশিই হবেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আসলে এদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জুলাই সন্ত্রাসীদের ওপর খেপে রয়েছে এই দুই ‘সমাজসংস্কারক’। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যখন তাদের উত্তম-মধ্যম দিয়েছে, তখন তারা বেশ খুশি।
গত দুদিন আগে ইলিয়াস একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সে আমেরিকা বসে বাংলাদেশের পুলিশ ও সে দেশের মব সন্ত্রাসীদের নির্দেশ দিচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা আমেরিকায় ইউনূস এবং তাঁর সরকারি প্রতিনিধিদলের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের পরিবারের ওপর অত্যাচার করতে। তাদের ওপর দমন-পীড়ন করার নির্দেশ দিচ্ছে। পুলিশকে বলছে, তাদের ধরে ধরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয় দিতে। নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিদিন হয়রানি করার।
আমেরিকায় বসে থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের এভাবে হুমকি-ধমকির বিষয়টি প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পিনাকী-ইলিয়াসদের এই সব ভিডিও দেখে কান্নাকাটি করে। পিনাকী-ইলিয়াসদের গালি দেয়। ব্যস। কিন্তু যে কাজটা করার দরকার সেটা তারা করে না। এই দুই সমাজসংস্কারক হয়তো জানে না বা ভুলে গিয়েছে, নিউ ইয়র্কে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যা করেছেন, সেটা আইনি পরিধির মধ্যে দাঁড়িয়েই করেছেন। তারা কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি। এই ঘটনাটি যে আইনিভাবে বৈধ ছিল তার প্রমাণ ডিম যিনি ছুঁড়েছিলেন সেই আখতারকে পুলিশ কিন্তু গ্রেফতার করার একদিন বাদেই ছেড়ে দেয়। যদিও আমেরিকার আইন তারা ভাঙতেন, তাহলে কিন্তু পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দিত না। এমনকী আখতারের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখা এবং হত্যার অভিযোগে পুলিশের মামলা রুজু হয়। যদিও পুলিশ তার কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। তাঁর আচার-আচরণে এমন কিছু খুঁজে পায়নি, যা ওই অভিযোগকে সমর্থন করে।
পিনাকীর আরও একটি ভিডিও কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে তাকে দেখা গিয়েছে, ইউনূস সরকারকে রীতিমতো গাল পাড়তে। কেন তিনি ইলিশ পাঠিয়েছিলেন, কেন তিনি চিনিগুঁড়া চাল পাঠিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পিনাকী। গত মে মাসে পিনাকি-ইলিয়াস-কনক যৌথ বিবৃতি দেয়, সেখানে তাদের বলতে শোনা যায় দেশের জন্য যদি প্রয়োজন হয় তবে পিনাকী-ইলিয়াস-কনক একসঙ্গে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য। ইতিমধ্যে ভারত সরকার পিনাকী ভট্টাচার্য, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, ড. কনক সরকার এবং জুলকারনাইন সায়েরের ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
তবে ইলিয়াস-পিনাকী-কনকরে একের পর এক আওয়ামী বিরোধী কথা বলে গেলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কেন তার বিরুদ্ধে মাঠে নামছে না তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের প্রশ্ন, ঘরে বসে মরা কান্না কেঁদে লাভ কী। এই প্রথম এরা এরকম আলটপকা কথা বলেছে তা নয়। লাগাতার বলে চলেছে। অথচ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের আন্দোলন সংঘটিত করছে না।












Discussion about this post