ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে অতি গোপনে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান তিনটি দেশের রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন কৌতূহল ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে মূলত আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যা নিয়ে এখন তোলপাড় হচ্ছে ভারতের পড়শি দেশ। প্রবাসী বাংলাদেশী অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এই বৈঠক নিয়ে নিজের ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে তিনি দাবি করেছেন, হয় এই রাষ্ট্রদূতদের বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য অবিলম্বে বের করে দিতে হবে, না হলে আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার করতে হবে। তিনি সাবের হোসেন চৌধুরীর জামিনের কি শর্ত ছিল, সেই প্রসঙ্গও উত্থাপণ করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এ নিয়ে কি করবে, সেটাই ঠিক করে উঠতে পারেনি। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের এই বৈঠককে অবৈধ বলতে নারাজ। বরং তিনি নিয়ম করে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত নাক গলাচ্ছে বলেই অভিযোগ করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মুহূর্তে পুরোপুরি ঘেঁটে গিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁরা কি করবেন, কি করবেন না সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না। শেখ হাসিনার কুশলী চালে কার্যত মাত হয়ে গিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর শেষ ভরসা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সেখান থেকেও তিনি কার্যত খালি হাতে ফিরে এসেছেন। ফলে এই মুহূর্তে স্থবিরতা ভর করেছে তাঁর উপর। এর ফলে পুরো উপদেষ্টামণ্ডলীও স্থবির হয়ে গিয়েছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই আবহে ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এবার অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন। আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে বলে তিনি সো্শ্যাল মিডিয়ায় দাবি তুলেছেন। এর আগে লক্ষ্য করা গিয়েছে, পিনাকী যতবার যা দাবি তুলেছেন, তা অন্তর্বর্তী সরকার মানতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, পিনাকীর সঙ্গে একই সুরে দাবি তোলে এনসিপি নেতারা। কিন্তু এবার উভয় সংকটে ফেলে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। কারণ তিনি দাবি করেছেন, সাবের হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার করতে হবে, না হলে ওই তিন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ ছাড়া করতে হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কোনওটাই করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক নিয়ে নরম প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা যে কোনও লোকের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, এতে কোথাও কোনও বাঁধা নেই। আবার আওয়ামী লীগ নেতাকেও কার্যত ক্লিনচিট দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
বোঝাই যাচ্ছে, পিনাকীর দাবি কার্যত খারিজই করে দিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। কিন্তু কার্যত একই অভিযোগ, অর্থাৎ বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অভিযোগে ভারতকে একহাত নিয়েছেন তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে এসে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছিলেন, ভারত চায় বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন হোক। আর সেই নির্বাচন হতে হবে, সুষ্ঠ, অবাধ, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও অংশগ্রহনমূলক। অর্থাৎ সব রাজনৈতিক দল যাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগও যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সেটাই বলেছেন বিক্রম মিশ্রি। এই প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা ভারতের বিষয় নয়, এটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এই ধরণের মন্তব্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশের উপদেষ্টারা ভারতের যে কোনও মন্তব্য বা দাবিতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলির ক্ষেত্রে তাঁরা মিঁউ মিঁউ করছেন।












Discussion about this post