আর মাত্র কয়েকদিন। বাংলাদেশের তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি। আমরা সকলেই জানি, গত বছর ওই দিনই শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের পতন হয়েছিল। আর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে কোনও রকমে প্রাণ হাতে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। অর্থাৎ, গত বছরের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটনাবহুল এক দিন। বিগত এক বছরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে হুল পর্যন্ত ফোটাতে পারেনি। তাঁরা এতটাই কোনঠাসা যে, তাঁদের ৫ শতাংশ নেতাও বাংলাদেশে নেই। হয় তাঁরা দেশান্তরী, না হল জেলে। এই অবস্থায় আবার আওয়ামী লীগের যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে। তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলি নিষিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তাঁদের নিবন্ধন বাতিল করেছে। আর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রালীগকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তবুও এই দল ও তাঁর নির্বাসিত নেত্রীকে নিয়ে আতঙ্কে কাঁপছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার এবং তাঁদের দোসররা। এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। পাঁচ আগস্ট আসন্ন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী উৎসবের কর্মসূচি নিয়েছে। কিন্তু সেই উৎসব কেমন যেন ফিঁকে হয়ে গিয়েছে। একটা আলাদা আতঙ্ক গ্রাস করেছে তাঁদের। একটা থমথমে পরিবেশ। পরিস্থিতি এমন পর্য়ায়ে পৌঁছেছে যে বাংলাদেশ জুড়ে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা।
বাংলাদেশের আম জনতার মনে প্রশ্ন, হাসিনা কি ফিরছেন? বাংলাদেশের আমলা মহল, সরকারি কর্মচারী মহল, নীচু তলার পুলিশ মহল থেকে শুরু করে সাংবাদিক, আইনজীবী প্রত্যেকেই প্রশ্ন করছেন, আওয়ামী লীগ কি কোনও কর্মসূচি গ্রহন করেছে পাঁচ আগস্টের দিন? পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ? এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বৈরাচার বিহীন বাংলাদেশ ভুলে গিয়ে এক নতুন আতঙ্ক গ্রাস করছে তাঁদের। কিন্তু পাল্টা অভ্যুত্থান কি এতই সহজ? কেউ কেউ বলছেন, শেখ হাসিনার কাছে সবই সম্ভব। তিনি এর আগেও ফিনিক্স পাখির মতো আগুনের ভিতর থেকে উঠে এসেছিলেন, আর বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন। আবার একদল বলছেন, এটা সম্ভব নয়। কারণ, একটা অভ্যুত্থান বা বড় আন্দোলন করতেও যে ধরণের জনসমর্থন প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার কাছে নেই। এমনকি ঝটিকা কোনও কর্মসূচি বা ঢাকা উদ্দেশ্যে লং মার্চ করার মতো জনবল জোগাড় করাও কঠিন কাজ আওয়ামী লীগের জন্য। কারণ, এর মধ্যে যে কোনও একটা কিছু ঘটাতে হলে লাখ লাখ মানুষকে পথে নামাতে হবে, যাতে পুলিশ-সেনাবাহিনীকে ছাপিয়ে গিয়ে কিছু একটা করা যায়। এটা এই মুহূর্তে কার্যত অসম্ভব। কারণ, ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্টে রয়েছে বাংলাদেশ প্রশাসন। জায়গায় জায়গায় তল্লাশি, নাকা চেকিং চলছে। এমনকি আওয়ামী লীগ সন্দেহে বহু মানুষকে গ্রেফতারও করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছে, এই ধরণের অভ্যুত্থানের চেষ্টা হলে কি ভূমিকা নেবে বাংলাদেশের সেনা ও পুলিশ কি ভূমিকা নেবে তার প্রমান গোপালগঞ্জের ঘটনা বা ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একটা সতর্কতা জারি করেছিল, সেই নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে তাতেই স্পষ্ট তাঁরা মনে করছেন, এই সময়কালে আওয়ামী লীগ একটা পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করবে। এই অভ্যুত্থআন বা পাল্টা অভ্যুত্থান শব্দ উল্লেখ করা না হলেও ওই রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা সরকারি অফিস দখল নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলেই অনুমান। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ যে বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়নি, সেটা পুলিশের ওই বিজ্ঞপ্তিতেই স্পষ্ট। অন্যদিকে জানা যাচ্ছে দিল্লিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বদের সঙ্গে এক বৈঠক করেছেন হাসিনা। সেটা নিয়েই মূল কৌতুহল। তাই এত সতর্কতা। কারণ, শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেওয়া মানেই আত্মঘাতী গোল খাওয়া।












Discussion about this post