খেলা হবে।
খেলা হবে দিল্লিতে, আগামী ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে ভারত সফরে আসছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণ সাগরে একটি রিসর্টে এক আলোচনাচক্রে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর দিল্লি সফরের কথা জানান। মোদিকে প্রিয় বন্ধু আখ্যা দিয়ে পুতিন বলেন, ‘ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ভারতে যাচ্ছি। আমি আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং বিশ্বাসভাজন অংশীদার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মুখিয়ে আছি।’ রুশ প্রেসিডেন্ট এই প্রসঙ্গে ইতিহাসের অবতারণা করেন। পুতিন বলেন, ‘অভিভক্ত সোভিয়ে ইউনিয়নের সময় থেকে ভারতে সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত হার্দিক। ভারত সেটা জানে। ভারত তার প্রশংসা করে। আমরাও প্রশংসা করি যে ভারত সে কথা মনে রেখেছে। তাই, আমাদের মধ্যেকার সম্পর্কের প্রতিদিন উত্তোরন ঘটছে।’
রুশ প্রেসিডেন্টের এই ভারত সফরের কথা আমেরিকা সহ গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে। তারা ইতিমধ্যে অনুমান করার চেষ্টা করছে, দুই নেতার মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জাতিসঙ্ঘে রাশিয়া ভারতের জন্য তদ্বির শুরু করেছে। তাদের দাবি, দিল্লিকে জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া হোক। কেন দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কেন জাতিসঙ্ঘে মাত্র চার-পাঁচটা দেশ স্থায়ী সদস্যের অধিকার ভোগ করবে। ভারতের হয়ে এই দাবি করেছেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী লাভারভ। বর্তমানে জাতিসঙ্ঘে স্থায়ী সদস্যদেশগুলি তাদের ইচ্ছামতো সভা ডাকতে পারে। সভায় কী ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে, সেটা তারাই ঠিক করে দেয়। এমনকী ভেটো দেওয়ার অধিকার এই কটি দেশের রয়েছে। এককথায় এই কটি দেশ জাতিসঙ্ঘে তাদের রাজত্ব কায়েম করতে সফল হয়েছে। রাশিয়া এই আধিপত্য খর্ব করতে চায়। তাদের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা। একা রাশিয়া নয়, একই দাবি তুলেছিল ভূটান,কাতার । জাপানতো একধাপ এগিয়ে ভারতের নাম প্রস্তাব করে। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে আমেরিকা এবং তার মিত্রদেশগুলিকে বাদ দিয়ে যে আন্তর্জাতিকমহল রয়েছে, তারা কিন্তু ভারতকে বাদ দিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষাপাতি নয়। তাদের মতে, ভারত একটি শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই, তাদের বাদ দিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
পুতিন এবং মোদির এই বৈঠক নিয়ে একাধিক গণমাধ্যম তাদের মতো করে খবর পরিবেশন করেছে। সব খবরের মধ্যে একটি সাধারণ খবর রয়েছে। তা হল দুই শীর্ষনেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে। একটা সময় ছিল যখন ভারত রাশিয়ার থেকে ৭৫ শতাংশ সেনা সরঞ্জাম সংগ্রহ করত। মাঝখানে ইউক্রেন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরে। সেনা সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিমাণ একসময় ৩৫ শতাংশ নেমে দাঁড়ায়। তবে আচমকাই সেই চিড় জোড়া লাগে। রাশিয়ার থেকে সেনা সরঞ্জাম কেনার মাত্র বাড়িয় দেয়।
ট্রাম্প যখন ভারতের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের কথা জানায়, সেই সময় দিল্লির পাশে দাঁড়ায় কিয়েভ। দিল্লি জানিয়ে দেয়, তারা কিয়েভের থেকে অশোধিত তেল কিনতে রাজি আছে। প্রস্তাব শুনে কিয়েভ ব্যারল প্রতি তেলের দাম এক ডলার করে কমিয়ে দেয়। কিয়েভ-দিল্লির এই ঘনিষ্ঠতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এবার ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ওয়াশিংটন। তারা দেখতে চাইছে, দুই দেশের দুই শীর্ষনেতার বৈঠক থেকে কী বেরিয়ে আসে। দিল্লি-কিয়েভ কী কী বিষয়ে চুক্তি সই করে।












Discussion about this post