মনে একরাশ ক্ষোভ, চূড়ান্ত হতাশ। আর এক ধরনের বিদ্বেষ। সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হওয়া নাহিদ ইসলামের যে ভাষণ ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে প্রতি ছত্রে ছত্রে শোনা যাচ্ছে একটাই লাইন – আমরা পারি নাই। কী কী তারা পারেনি, তার একটা ছোটখাটো তালিকা নাহিদ তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন। তবে এই প্রথম নয়। বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদকে বলতে শোনা যায়, উপদেষ্টাটদের অনেকেই সেফ এগজিট চাইছেন। ওই সাক্ষাৎকারে নাহিদ বলেন, ‘অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছে অথবা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিট্রে (প্রতারণা) করেছে। যখন সময় আসবে, তখন আমরা এদের নাম প্রকাশ করব।’
চলতি বছর মে মাসে নাহিদকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন – এই খবর শুনে যমুনা চলে যান। ইসলাম পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশের চলমান পরিস্থিতিতে স্যারের তো পদত্যাগের একটা খবর আমরা আজকে সকাল থেকে শুনছি। তো ওই বিষয়ে আলোচনা করতে স্যরের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলাম। ’ নাহিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে এও বলেন, দেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে তিনি কাজ করতে পারবেন না। নাহিদের কথায়, ‘স্যার বলেছেন, আমি যদি কাজ করতে না পারি… যে জায়গা থেকে তোমরা আমাকে এনেছিলে, একটা অভ্যুত্থানের পর। দেশে পরিবর্তন, সংস্কার হচ্ছে। কিন্তু যেই পরিস্থিতিতে যেভাবে আন্দোলন বা যেভাবে আমাকে জিম্মি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলি একটি সাধারণ জায়গায় পৌঁছাতে না পারলে আমি কাজ করতে পারব না। ’ সেই সময় নাহিদ তাঁকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখেন।
এটা ঠিক পাঁচ মাস বাদে নাহিদের গলায় উল্টো সুর। পাঁচ মাসে আগে যাঁকে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার হার্দিক অনুরোধ করেছিলেন, এখন তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। দ্বর্থ্যহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যে উদ্দেশ্যে এবং আশা নিয়ে এই সরকারকে তাঁরা ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল, তাদের একটি আশা এই সরকার পূরণ করতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নাহিদকে এও বলত শোনা যায় – আমরা পারি নাই যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সাংস্কৃতিক ভিত্তি ছিল গণমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় যে স্বৈরাচারের দোসর ছিল, তাদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করতে।’
এই হতাশা একা নাহিদ ইসলামের একার নয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন সারজিস আলমেরও একই বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু উপদেষ্টার মধ্যে এই আচরণ দেখতে পাচ্ছি যে তাঁরা এখন কোনওভাবে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেফ এগজিট নিতে পারলেই হল। এই দায়সারা দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটা সরকার কাজ করতে পারে না। তাঁরা শহিদের ওপর, এতো রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা যদি জীবনের একটু থ্রেটের ভয় করেন তাহলে তো ওই দায়িত্ব তাদের নেওয়া উচিত ছিল না। ’
এদিনের একটি খবরে জানা গিয়েছে, নাহিদ ইসলাম অনেক আগেই উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তখন বোঝা যায়নি কী কারণে তাঁর এই সিদ্ধান্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া তাঁর ভাষণ বলে দিচ্ছে, চূড়ান্ত ক্ষোভ থেকে তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়ান।












Discussion about this post