বাংলাদেশে নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। পদ্মাপারে বেশ জোরেই বইছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচন কমিশনে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তদারকি সরকার প্রধান বেশ চাপে। ঘরে যেমন তিনি চাপে রয়েছে, চাপ আসছে বাইরে থেকেও। আন্তর্জাতিকমহল থেকে তদারকি সরকারকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে ভোট হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ জরুরি। সেই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিক যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাও তদারকি সরকারকে নিশ্চিত করতে হব। জাতিসঙ্ঘ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনও প্রতিনিধিদল পাঠাবে না। না পাঠালেও ১২ ফেব্রুয়ারি পদ্মাপারে কী হচ্ছে, সে দিকে যে তাদের কড়া নজর থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। নজর থাকবে আমেরিকার। ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের চোখ থাকবে পদ্মাপারে।
পদ্মাপারের ভোট নিয়ে গত বছর বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেই সব সমীক্ষা রিপোর্টে দেখানো হয় আওয়ামী লীগ আরও বেশি সংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। দ্বিতীয়স্থানে থাকবে জামায়াত। তবে জিয়ার মৃত্যুর পর জাতীয় রাজনীতির চিত্র বদলে গিয়েছে। ধরে নেওয়া হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতা ফিরতে চলেছে। সে ক্ষেত্রে তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। এদিকে অনেক টানাপোড়েন, দেনদরবার ও শেষ মুহূর্তে টানা বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে। জোটের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘১১ দলীয় নির্বাচনী জোট’। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসনরফা না হওয়ায় ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে লড়বে ১৭৯টি আসনে। বাকি আসনগুলির মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে প্রার্থী দেবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সাতটি, আমার বাংলাদেশ (এবি) তিনটি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি করে আসনে প্রার্থী দেবে। মোর্চার অন্য দুটি দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি কোনও প্রার্থী দিচ্ছে না। তবে তারা জোটে থাকবে।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে হতে চলেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। যদিও বাইরে থেকে দেখে আপাত দৃষ্টিতে সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে বলে মনে হতে পারে। ভিতরে ভিতর একাধিক দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছে সরকার। বিদেশি শক্তি, রাজপথের বাস্তবতা, নিজেদের রাজনৈতিক মিত্র – সব দিক থেকে ভীষণ চাপে সরকার। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, সরকারের সামনে বেশি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন, কী সেই ঝুঁকি, যা নিয়ে সরকার বেশ চিন্তায় রয়েছে?
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া একসুরে কথা বলছে। তারা চাইছে নির্বাচন হোক অন্তর্ভুক্তিমূলক। একই ইচ্ছা ভারতেরও। পশ্চিমের দেশগুলি মনে করে আওয়ামী লীগের একটা বড়ো অংশের ভোট ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই ভোটাররা ভোট দিতে না পারলে নতুন সরকার হবে দূর্বল। বিদেশি কূটনৈতিকমহল বলতে পারবে, সরকার সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই কারণে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মার্কিন সফর গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওয়াশিংটনকে তাঁকে বোঝাতে হয়েছে বাংলাদেশ কীভাবে একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবে। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আমেরিকা এখনও সন্তুষ্ট নয়। এখানেই সরকারের প্রথম বড়ো সমস্যা। সেই সঙ্গে ঝুঁকিও। আওয়ামী লীগকে ফেরালে ঘরে ঝামেলা, না ফেরালে বাইরের চাপ। ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন ভেঙে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ভোটে নেই। কিন্তু রাজপথে নামার ক্ষমতা রাখে। সরকারের জন্য এটি বড়ো মাথাব্যথা।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা তদারকি সরকারকে একটি রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সক্রিয় হবে। কারণ হিসেবে উঠে আসছে, ১২ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকমহলের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাবে। আওয়ামী যদি দেখে নতুন সরকার পশ্চিমের দেশগুলি থেকে কোনও সমর্থন পাচ্ছে না, তাহলে তারা এটা সুযোগ হিসেব নিতে পারে। সে কারণে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ভয় বাড়ছে। তারা জানে একবার বড়ো সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।












Discussion about this post