অগ্নিঝড়া ভাষণ ও নেতৃত্বগুণ দুজনের প্রথম থেকেই ছিল। তাই তো বাংলাদেশের সাবেক শাসক শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের পদ পেয়েছিলেন দুজন। অথচ সেই দুজন আজ আওয়ামী লীগকেই শেষ করতে মাঠে নেমেছেন। আমরা কথা বলছি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত নাম সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ সম্পর্কে। এই দুজন একদা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। এখন তাঁরা জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই অন্যতম সংগঠক। সারজিস উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বে আর হাসনাত দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্বে। গত বছরের জুন-জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশজুড়ে যে কোটা বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে প্রথমসারিতেই দেখা গিয়েছিল সারজিস, হাসনাতদের। যত দিন যাচ্ছে, দুজনের মুখোশ খুলছে। দুজনেই একসময় নিজ নিজ এলাকায় ছাত্রলীগ করতেন। সারজিসের বাবা মোঃ আক্তারুজ্জামান সাজু পঞ্চগড়ের আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আর একই সঙ্গে তিনি আলোয়াখোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর সারজিস ডাকসু নির্বাচনে অমর একুশে হল সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছিল। এই সারজিসকে নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি বাংলাদেশে। তাঁকে জুলাই ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদও ছাড়তে হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সারজিস ও হাসনাতের ক্ষমতা অপরিসীম বলেই মনে করেন বাংলাদেশের ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু এই সারজিস ষখন ছাত্রলীগ করতেন তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমর্থনে তাঁর জ্বালাময়ী ভাষণ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
যদিও সারজিসের দাবি, ‘আমাদের একটি স্পেশাল বৈশিষ্ট্য আছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আমাদের বাধ্যতামূলক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে হয়েছে’। তাঁর আরও দাবি ছিল, ‘গুজব লীগ গুজব ছড়াবে। হাজার-হাজার কোটি টাকা পাচার করে, মুখে চুনকালি মেখে যখন আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারে না, তখন কাঁটাতারের ওপার থেকে তারা “আম্মা”র কথায় প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। কিন্তু ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে পদের জন্য ব্যাপক লবিং তদবির করেছিল সারজিস। বর্তমান এই পরিস্থিতি না এলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির নিজ এলাকার ও আওয়ামী পরিবারের ছেলে হিসেবে আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আবেগঘন বক্তব্যে বিমোহিত করে হয়তো একসময় অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সভাপতি বা সেক্রেটারি পদও বাগিয়ে নিতো সে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সারজিস আলমের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ করাকালীন একাধিক অভিযোগ আসছে। একই পরিস্থিতি হাসনাত আবদুল্লারও। তিনিও এক সময় চুটিয়ে ছাত্রলীগ করেছেন এবং ওই সংগঠনের সহকারি সম্পাদকের পদও পেয়েছিলেন। আজ তাঁরাই সুযোগ বুঝে বিদেশী শক্তির থেকে অর্থের লোভে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছেন বলেই দাবি হাসিনার সমর্থকদের। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ দাবি করছেন, রাজনীতিতে দলবদল অনেকেই করেন। কিন্তু তা বলে সারজিস বা হাসনাতদের মতো একসময় বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের হয়ে গলা ফাটিয়ে বা শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হতে চাওয়া আর বর্তমানে কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুকে অপমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে খুনি বলে সম্বোধন করা সারজিস বা হাসনাত ছাড়া কেউ করেন না। অর্থাৎ, ছাত্রলীগের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করে আওয়ামী লীগকেই আজ খেয়ে নিতে চাইছেন সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহরা।












Discussion about this post