বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে খোঁচা দিলেন। যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নভেম্বরে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। আর সেই ঘটনাকে টেনে এনে খোচা দিলেন শফিকুল আলম। আসলে তিনি বলতে চাইলেন, আওয়ামী লীগের আদতে কোনও শক্তি অবশিষ্ট নেই। খাঁচায় বন্দি থাকতে থাকতে আওয়ামীলীগ এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, যে যতই খোঁচা খুচি করা যায় না কেন, তার ভিতরে থেকে উচ্চ কন্ঠে হালুম বলার মত অবস্থা নেই। আসলে কি বলতে চাইলেন শফিকুল আলম? হাসিনাকে কি ভয় পেতে শুরু করেছে ইউনূসের প্রেস সচিব?
শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন। তিনি আখাউড়া খরমপুর এলাকার শাহ সৈয়দ আহমেদ গেছুদারাজ প্রকাশ খরমপুর মাজার শরীফ জিয়ারত করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ ঠিক কি করতে পারে, সেটা আমরা নভেম্বর মাসে দেখেছি। উল্লেখ্য, নভেম্বর মাসেই আওয়ামী লীগ নেত্রী তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনও চাপ নেই।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নির্বাচন নিয়ে কোনও চাপ তৈরি হয়েছে সরকারের অন্দরে? কারণ চাপ থাকলেই মানুষ বারবার উল্লেখ করে, চাপ নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোটে নিয়ে আসার জন্য কেউ বলছে না। এদিকে বেশ কয়েকদিন যাবত দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগকে ভোটে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা অনেকে বলছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ দুই কূটনীতিবিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকেও এই প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে উপস্থিত দুই মার্কিন কূটনীতিকবিদ আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। অর্থাৎ ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথায় বারবার বলা হচ্ছে। এছাড়াও সর্বশেষ চার জন ব্রিটিশ এমপি চিঠি লিখেছেন। সেখানেও এই প্রশ্ন বলা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন পাস সিনেটর চিঠি লিখেছেন। এমনকি বেশ কিছু মানবধিকার সংস্থার তরফে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছে। ইইউ থেকেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছিল। তবে এখন মনে হচ্ছে, তাদের অবস্থান খানিকটা বদলে গিয়েছে। জাতিসংঘের অবস্থানটা প্রথমদিকে সরকারের পক্ষে থাকলেও এখন সেটা নয়। ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নতুন রাষ্ট্রদূত এসেছেন। ফলে সবমিলিয়ে একটা চাপ তো রয়েছেই। কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রেস সচিব বলছেন কোনও চাপ নেই। সেটা কি আদেও বিশ্বাসযোগ্য? প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা ও তাদের পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। আওয়ামী লীগের লোকেরাও কি এই ১৫ বছর ধরে ভোট দিতে পেরেছে? প্রশ্ন তোলেন শফিকুল আলম। তাদের ভোট পুলিশ দিয়ে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমনকি গণভোট নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাদের জানান পরিধি কম বলেও মন্তব্য করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংখ্যার কথা আসছে youtube বা tiktok থেকে। কিছু লোক আছে যারা ভিউ কামানোর জন্য এটা করছে। শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংখ্যার কথা একেবারেই অমূলক। তারপরই তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ কি করতে পারে তা আমরা নভেম্বর মাসে দেখেছি। তাদের নেত্রীর যখন বিচারের রায় হল, তার আগেও যখন হরতাল হল। তারা শুধু দু একটা ককটেল মারতে পারে। গির্জায় ককটেল মারে, বাসে ককটেল মারে। তারপর প্রশ্ন তোলেন, এর বাইরে আর কি করতে পারে তারা?
এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা উস্কানিমূলক বক্তব্য। প্রেস সচিবের এই বক্তব্য যদি বুমেরাং হয়ে যায়, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তখন কিভাবে সামলাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার? ফলে নির্বাচনের মুখে সরকারের উপদেষ্টাদের অত্যন্ত সন্তর্পণে পা ফেলা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post