‘লেগেছে লেগেছে আগুন।’
আগুন লেগেছে বাংলাদেশে। তবে এ আগুন চোখে দেখা যায় না,অনুভব করা যায়।
বাংলাদেশ সেনার একাধিক সদস্যকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) আওতায় নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে সে দেশে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত অস্থিরতা। এই নিয়ে বাহিনীতে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। সূত্রের খবর, শীর্ষ আদালত সেই মামলার শুনানি গ্রহণে রাজিও হয়েছে। এদিকে, আবার সরকারের সঙ্গে বিচারবিভাগ এবং সেনাবাহিনীর ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। সব কিছুর মূলে একটা বিষয়। ডজনের বেশি সেনাসদস্যকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। মূল প্রশ্ন অন্য জায়গায়। বাংলাদেশ কি দ্বিতীয়বার সেনা অভ্যুত্থানের সাক্ষী হতে চলেছে। সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেন, সেটা সবিস্তারে তুলে ধরা যাক।
আইসিটি তৈরি হয় মুক্তিযুদ্ধের তিন বছর বাদে, ১৯৭৩ সালে।। এর গঠনের একটি উদ্দেশ্য ছিল। রাজাকার, আলবদর, আল সামস, নিজাম-এ-ইসলাম, মুসলিম লিগ, জামাতে ইসলামীর মতো মীর জাফর আলী খানেরা একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। সেই সময় কী হয়েছিল তা সকলের জানা। সেই রকম নারকীয়, বিভৎস মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের জন্য তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা গণধর্ষণ, ধর্মান্তরণ (হিন্দুদের মুসলিম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা), রাষ্ট্র থেকে উৎখাত, ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যায় যারা লিপ্ত, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। তার জন্য একটি আদালত তৈরি করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু ইউনূস সরকার সেটাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সেনাবাহিনীর একাংশ যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, তাদের এখন বিচারের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা বিচারের নামে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। হাসিনার দেশ ত্যাগের পর রাজাকার গোষ্ঠী নতুন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু করে। আদালতের চিফ প্রসিকিউটার কে হয়েছেন? তাজুল। সে কে? রাজাকারদের চিফ প্রসিকিউটার ছিলেন। আর চেয়ারম্যান হয়েছেন নজরুল ইসলাম। তিনি এলপিআর-য়ে চলে যান। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যখন বিচার চলছিল, তখন তিনি আচমকাই গদ্দারদের পক্ষ নিলেন।
এবার আসা যাক সংঘাতে বিষয়ে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সেনাপ্রধান ওয়াকার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং সৈয়দ রেফাৎ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন। জানিয়ে দেন, বাহিনীর সদস্যদের বিচার হবে সেনা আইনে এবং সেনা আদালতে। কোনও অবস্থাতেই ফৌজদারি আদালতে তাদের বিচার করা যাবে না। তাছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট বর্তমানে জাতিসঙ্ঘে শান্তিবাহিনী হিসেবে কাজ করছে। কোনও দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যদি মানবতাবিরোধী অভিযোগ ওঠে, তারা যদি সরাসরি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তারা কোনও ভাবেই জাতিসঙ্ঘের শান্তিবাহিনীতে যোগ দিতে পারে না। সেনাবাহিনীর যে সব সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলে বিচারের আওতা নিয়ে আসা হয়েছে, সেটা যে ভূয়ো তা সহজেই অনুমান করা যায়। আসল উদ্দেশ্য বদলা নেওয়া। তাছাড়া গণঅভ্যুত্থানে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে এতজন সেনা সদস্যকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হল। সূত্রের খবর, তাজুল এবং নজরুল ইসলাম। যদি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির হয়ে আদালতে সওয়াল করেন, তাহলে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানে যাবে।












Discussion about this post