এশিয়াকে বুঝতে হবে আমেরিকা এবং ইউরোপ কি চাইছে। পশ্চিমাদের হাত থেকে ক্ষমতা যে দ্রুত সরে যাচ্ছে, সেটি বুঝতে পেরেই এশিয়াকে মুলত ভারত এবং চীনকে ধ্বংস করতে চাইছে জর্জ শরসরা। তারা জলের মত ডলার ঢালছে তাদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে। কারণ আমেরিরাক প্রধান ক্ষমতার উৎস বা ভবিষ্যত হল ডলার। আর এশিয়া থেকেই শুরু হয়েছে ডলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। মুলত চিন রাশিয়া এবং ভারতের হাত ধরে ডলারের পতন শুরু হতে চলেছে। তাই ইউক্রেনকে ব্যবহার করে বা বোকা বানিয়ে রাশিয়াকে ধ্বংশ করার খেলায় মেত উঠেছিল আমেরিকার ডিপস্ট্রেট। সেখানে মুল বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত এবং চীন। কারণ ভারত রাশিয়া থেকে শুধু তেল কেনার কারণেই প্রতিবছর কয়েক লক্ষ্যকোটি টাকার বিদেশী মুদ্রার রির্জাভ বাড়াতে পেরেছে। শুধু তাই নয় যেভাবে দ্রুত ভুরাজনৈতিক রাজনীতির কারণে আজকের বন্ধু কাল শত্রুতে পরিনত হচ্ছে, সেখানে ভারত রাশিয়ার মত পরীক্ষিত বন্ধুকে বরাবরের জন্য পাশে পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্জন করেছে। সেই সঙ্গে ভারত রাশিয়া এবং চীন মিলে ডলারের দাদাগিরিকে বাইপাস করে নিজেদের অর্থনীতিকে মজবুত করার সূযোগ পাচ্ছে। আর যখন থেকে ভারত বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতি হিসাবে উঠে এসেছে তখন থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে ডিপস্ট্রেট তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে শুরু করেছে।তাদের মূল লক্ষ্য কিভাবে ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা যায় এবং কিভাবে ভারতকে আমেরিকার পদানত করে রাখা যায়, কারণ ভারত মানেই ১৪০কোটির বাজার। যেখানে সাধারণ পণ্য থেকে সামরিক যু্দ্ধাস্ত্র সবই আছে সেই বাজারে বিক্রি করার জন্য।তাই সারাক্ষন ভারত দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তারা । আমেরিকা বুঝেছে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা মালদ্বীপ এগুলিকে দখলে রাখলে যেমন এশিয়ার সমুদ্রের উপর নিজেদের ক্ষমতাকে কায়েম রাখা যাবে, ঠিক তেমন নেপালকে নিজেদের দখলে রাখলে এভারেষ্টকে নিজেদের দখলে রাখা যাবে, কারণ এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে গেলে নেপাল দিয়েই যেতে হয়। ফলে আমেরিকা এভারেস্টের উচ্চতাকে ব্যবহার করে ভারত চীন এমনকি রাশিয়ার উপর নজরদারী চালাতে পারবে। তা নাহলে কোটা আন্দোলোন থেকে সরকার পতন অথবা সোশাল মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়ার কারণে কোন সরকার পতন হতে পারে না। এখানে যুব সামাজের হাতে অর্থ এবং অস্ত্র এত পরিমানে দেওয়া হয়েছে যে তাদের ক্ষমতার কাছে পুলিশ এবং সেনা নতি স্বিকার করতে বাধ্য। অথবা ডলারের মাধ্যমে সেগুলিকেও কেনা হয়েছে।
নাহলেপৃথিবীর এমন কোন দেশ আছে যেখানে দূর্নীতি নেই। কিন্তু দূর্নীতি দেখলেই কি ডিপস্ট্রেট সেখানে সরকার উচ্ছেদের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে? মালদ্বীপ শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ নেপাল এই দেশগুলিকে বিক্রি করে দিলেও তো সেই পরিমান অর্থ পাওয়া যাবে না, যে পরিমান অর্থ এই দেশগুলির সরকার পতনে ডিপস্ট্রেটের খরচ হয়েছে। তাহলে কেন এই দেশগুলিকে বোড়ে হিসাবে ব্যবহার করছে ডিপস্ট্রেট।ডিপস্ট্রেটের এই খেলার পিছনে অনেক কারণ।প্রথমত এই দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সীমান্ত ভাগ করা আছে। তাই মূল লক্ষ্য বস্তুকে আঘাত করতে হলে, আশে পাশের রাস্তা মানে করিডর ঠিক রাখতে হবে, এবং লক্ষ্যস্থলকে ভয় দেখাতে হবে, দেখ আমাদের কত ক্ষমতা আমরা যখন যা চাইবো তাই করতে পারি, অতয়েব আমাদের কথা শুনে না চললে, আমরা যা বলব তা না করলে তোমরা শান্তিতে দেশ চালাতে পারবে না। ভারতকে লক্ষ্য বস্তু করেই, তার চারপাশের দেশগুলিতে নিজেদের পুতুল সরকার বসাতে ব্যস্ত আমেরিকা। তবে নেপাল আর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোন তুলনা আসে না। সে আয়তনের দিক থেকে হোক বা অর্থনীতি। অথবা রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক কাঠামো, সবেতেই ভারত আলাদা। ডিপস্ট্রেট চাইলেই ভারতে একটা অভ্যুত্থান ঘটাতে পারবে না। কারণ এই দেশে এত ভাষাভাষির মানুষ বাস করে এছাড়া রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক বৈচিত্র। যদিও কিছু কিছু রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা রয়ে গেছে। তবে সেই পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে নয়। তাই ডিপস্ট্রেট চাওলেও ভারতে গণঅভ্যুত্থান সম্ভব নয়। আবার এটাও ভাবার কারণ নেই যে বাংলাদেশ অথবা নেপাল দুই দিক থেকে চিকেন নেক আক্রমন করলে ভারত অনাআসে তা প্রতিহত করতে পারবে। কারণ সামনে বাংলাদেশ বা নেপাল থাকলেও পিছনে আমেরিকা কতটা গভীর ভাবে তাদের সাহায্য করবে তা বোঝা বা অনুমান করা কঠিন। তাই ভারতের সাত রাজ্য কে বাঁচাতে গেলে চিকেনস নেককে অভেদ্য দূর্গ বানাতে হবে। আর ভারতের সব রাজ্যগুলিকে সচেতন থাকতে হবে।












Discussion about this post