মধ্যরাতে চট্টগ্রাম ইসকন মন্দিরে হামলা। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের বাসুদেব মুকুন্দ দত্ত ধাম ইসকন মন্দিরে হামলা হয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে একটি ভিডিও ফুটেজ। অন্যদিকে চিন্ময়কৃষ্ণ দাস প্রভুর বিচারের দাবিতে ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর পাথরঘাটার হরিশ চন্দ্র মুন্সেফ লেইনে শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দির, সংলগ্ন শনি মন্দির ও শান্তনেশ্বরী কালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে মন্দির পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। তারা বলছেন, কয়েকশ লোক বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মন্দির লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং শনি মন্দিরে ভাঙচুর করে। অন্য দুই মন্দিরের ফটক ভাঙচুর করা হয়। কোতোয়ালীর বান্ডেল রোড, মেথরপট্টি, সতীশবাবু লেন, হরিশচন্দ্র মুন্সেফ লেন, বংশাল রোডে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়। পাথরঘাটা মেথরপট্টিতে মন্দির ও ঘরবাড়িতে, হরিশচন্দ্র মুন্সেফ লেনে শান্তনেশ্বরী কালীমন্দির, শতীশবাবু লেইনে জগবন্ধু আশ্রমসহ কয়েকটি মন্দির ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়িতে হামলা চালানো হয়। আক্রান্ত হিন্দুরা পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চেয়ে ফোনে যোগাযোগ করলে হামলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দেখা মেলেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, হামলাকারীরা নিরাপদে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সেনা- পুলিশ এলেও তারা ঘটনার তদন্ত না করেই চলে যায়। হামলাকারীরা রাতে ফের হামলার হুমকি দিয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দুপুরে মিছিল থেকে কিছু লোক পাথরঘাটায় ঢুকে পড়ে। তারা হরেশ্চন্দ্র মুন্সেফ লেনের মন্দির লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের চেষ্টা করে। আমরা সংখ্যায় কম ছিলাম। পেছন পেছন এসে ঠেকানোর চেষ্টা করি। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর আরও সদস্য এলে তারা চলে যায়।’ পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: নাজমুন নূর প্রথম আলোকে বলেন, ‘কে বা কারা মন্দিরের ফটকের তালা ভেঙেছে। এ সময় সিসি ক্যামেরার লাইন কাটা ছিল।’ সেদিনই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার পর মেথরপট্টি, পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গিবাজারে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেদিনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রামে কোতোয়ালি থানা এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা করছে উগ্র ইসলামপন্থীরা। পাশাপাশি পুলিশ-সেনা অভিযানেও আতঙ্কিত তারা। মামলা দিয়েও হিন্দুদেরকে নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারের পরেই চট্টগ্রাম জুড়ে হিন্দু নিধন যজ্ঞ শুরু করেছে মুসলিম মৌলবাদী ও জঙ্গিরা। একের পর এক মন্দির ও হিন্দু বাড়িতে হামলা চলছে। আর মৌলবাদীদের পুরোদমে মদত জোগাচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে পটিয়া উপজেলার ছনহরা এলাকায় বাসুদেব দত্ত মুকুন্দ দত্ত ধাম ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর চালানোর সময়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে আসেনি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post