বিগত অর্ধশতাব্দীতে বিশ্বের কোনও এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এত বিপুল তৎপরতা দেখায়নি। যা তাঁরা বিগত কয়েকবছরে কেবল মাত্র দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে দেখাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়া, মূলত বঙ্গোপসাগরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাড়ি কাড়ি অর্থ যেমন বিনিয়োগ করেছে, তেমনই শক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করতেও পিছপা হচ্ছে না। এতদিন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের একমাত্র লক্ষ্য ছিল চিনকে প্রতিহত করা। তখন ভারত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বন্ধু। কিন্তু বিগত কয়েকমাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবমতো বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্পের রোষাণলে পড়েছে ভারত। কিন্তু তার আগে থেকেই বঙ্গোপসাগরে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল ওয়াশিংটন। আর এর জন্য ওয়াশিংটন টার্গেট করেছিল বাংলাদেশকে। আমরা জানি গত বছর বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পিছনে মার্কিন ডিপ স্টেটের ভূমিকা সম্পর্কে আজ আর কেই অজ্ঞাত নয়। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি করতে দিতে অস্বীকার করায় শেখ হাসিনাকে হঠানোর ষড়যন্ত্র রচিত হয়েছিল। এবং তা কার্যকরও করতে পেরেছিল ষড়যন্ত্রকারীরা।
কিন্তু কেন বাংলাদেশই ছিল টার্গেট?
বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা বিরল খনিজের ভাণ্ডার। আর মিয়ানমারের উপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চিন ও রাশিয়ার। ভারতও মিয়ানমারে ঢুকে পড়েছে। সেখানে কেবল মার্কিন আধিপত্য নেই। তাই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে রাখাইন মানবিক করিডোরের নীল নকশা হয়েছিল। এছাড়া সেন্ট মার্টিন বা কক্সবাজারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি হলে বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণও ওয়াশিংটন হাতে পাবে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের পালাবদলের খেলায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ও শক্তি বিনিয়োগ করছে। অপরদিকে এবার ওয়াশিংটনের নজর পড়েছে আফগানিস্তানের দিকে। এই মুহূর্তে পাকিস্তান বন্ধু হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির একটি বাক্স ভর্তি কোনও চকচকে ধাতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাচ্ছেন। অনেকেই দাবি করছেন, ওই চকচকে ধাতুই হল বিরল খনিজ। যা পাকিস্তানের বালুচিস্তান ও খাইবারপাথতুনখোয়া এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই চালে পাক সেনাপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে পেতে চেয়েছেন। আর আফগানিস্তানের ওপরও নিয়ন্ত্রণ পেতে চেয়েছিলেন। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানের বাগরাম এয়ারবেস ফিরে পেতে হুমকি দিচ্ছেন। অর্থাৎ, বালুচ ও আফগান এলাকায় ফের মার্কিন আধিপত্য বিস্তার। এই এলাকায় চিনের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। ভারতও চাবাহার বন্দর দিয়ে একটি ইকোনমিক করিডোর তৈরি করছে এই এলাকার মধ্য দিয়ে। যা ভারতের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছিল ট্রাম্পের আমেরিকা।
কিন্তু ধমক-চমকে নরেন্দ্র মোদিকে একচুলও টলাতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় যে ভারত এখন অনেকটাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে সেটা আঁচ করতে পারেনি ওয়াশিংটন। যার ফলে হুমকি, শুল্ক চাপ দিয়েও ভারতকে বাগে আনতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। উল্টে নিজেদের দেশই শুরু হয়ে গিয়েছে গণবিদ্রোহ। আর এতেই প্রবল চাপে পড়েছে হোয়াইট হাউস। যদিও ট্রাম্প এখনও হুমকি নীতি থেকে সরেননি। কিন্তু ভিতর ভিতর ভারতের সঙ্গে বোঝাপড়া শুরু করতে তৎপর তাঁর দফতর। আর এতেই চাপে পড়ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। গাজা শান্তি সম্মেলনে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই শাহবাজ শরীফের পাশে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদির প্রশংশা করেন। এটা একটা বড় কূটনৈতিক বার্তা। অপরদিকে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ইস্যু একাই সামলাবে। ফলে পিছু হটছে যুক্তরাষ্ট্র।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post