ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল কুন্দন সিংয়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন। এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একাধিক বিভাগীয় কর্তাদের বৈঠক হলেও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কোনও বৈঠক হয়েছে কিনা জানা যায়নি। তবে ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দাদের দলটি ঢাকা ছাড়ার পরই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বাংলাদেশের দুটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে যান। যারমধ্যে একটি হল ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যাক্ত বিমানঘাটি। এটি ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর থেকে একশো কিলোমিটারের কম দূরত্বে অবস্থিত। ফলে সামরিক দিক থেকে এই বিমানঘাঁটির অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেন সেনাপ্রধান এই পরিত্যাক্ত বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করলেন, সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকা এক মেজর পদমর্যাদার আধিকারিক বাংলাদেশি মিডিয়াকে বলেছেন, এই পরিদর্শনের মিডিয়া কভারেজের জন্য অনুমতি নেই। তাই সংবাদকর্মীদের ভেতরে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একইসাথে সেনাপ্রধান স্যার মিডিয়ার সামনে কোনও কথা বলবেন না। তবে কী কারণে তিনি এসেছিলেন, সেটা জানাননি ওই মেজর।
জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার করে পৌঁছে যান ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যাক্ত বিমানবন্দরে। তাঁর সঙ্গে সেনাবাহিনীর কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। ওই বিমানবন্দরের পাশেই অবস্থিত সেনা ক্যাম্পের হলরুমে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বৈঠক করেন সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে। প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে সেনাপ্রধান একই হেলিকপ্টার যোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর সৈয়দপুর বিমানবন্দরও পরিদর্শন এবং গোপন বৈঠক করেন জেনারেল ওয়াকার। বাংলাদেশে ২৫ জন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর যে উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে প্রবল চাপে পড়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। তাঁর বিরুদ্ধেই মূলত ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে। আর ওই পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান কার্যত অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন বলেই দাবি উঠেছিল। তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে। কিন্তু চার-পাঁচ দিনের গা ঢাকা দেওয়ার পর ওই দিনই প্রথম তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা গেল। অর্থাৎ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু না হলে সেনাপ্রধান এভাবে ছুটে যেতেন না লালমনিরহাটে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ঠাঁকুরগাঁওয়ে নতুন করে বিমানঘাঁটি তৈরি করতে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
কেউ কেউ দাবি করছেন, সেনাপ্রধানের এই তৎপরতা ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা প্রতিনিধি দলের সফরের পরপরই। এর পিছনে ভারতের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেই তিনি লালমনিরহাট গিয়েছিলেন। আসলে এই বিমানঘাঁটি সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলে তৈরি করেছিল ব্রিটিশ বাহিনী। দীর্ঘকাল এটি পরিত্যাক্ত। কয়েকবার এটা চালুর চেষ্টা হলেও তা ভারতের চাপে চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ। কারণ, সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানঘাঁটি ভারতের চিকেন নেকের খুব কাছেই অবস্থিত। সম্প্রতি চিনকে এই বিমানঘাঁটি পুনর্নিমানের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। আর এটা হলে ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তা হতো ভয়ানক হুমকি। সেই কারণেই সামরিক গোয়েন্দাদের বাংলাদেশ সফর। এই দলটিও লালমনিরহাট পরিদর্শন করেছিল বলেই খবর। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, জামাতপন্থী সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার, ভারতকে চাপে রাখতেই লালমনিরহাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। কারণ, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পাকিস্তানের তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। পাকিস্তানি সেনাকর্তারা ঘনঘন সফর করছেন বাংলাদেশে। এমনকি বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতে আক্রমণের হুমকিও দিয়েছিলেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেও জেনারেল ওয়াকার লালমনিরহাটে যেতে পারেন। তবে সঠিক কোনটা সেটা বলা খুব কঠিন। কিন্তু এটা বলাই বাহুল্য যে জেনারেল ওয়াকার কোনও পরিকল্পনায় রয়েছে। যা আগামীদিনে বোঝা যাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post