বাংলাদেশের বিতর্কিত স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী ও ধনকুবের দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। যিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত স্বর্ণ বিপণী ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের এমডি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অত্যন্ত হাসিনাঘনিষ্ট এবং আওয়ামী লীগকে অর্থ সাহায্য করেন। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব। ওই সময় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা আমদানির নামে বিদেশে অর্থপাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চালিয়ে বাংলাদেশের সিআইডি সে দেশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ভারতের কলকাতায় তিনটি জুয়েলারি দোকান ও ১১টি বাড়ি এবং মালয়েশিয়া, দুবাই ও কানাডায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রতারণার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অবৈধভাবে একটি ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম কর্তৃপক্ষ মানিলন্ডারিংয়ের অনুসন্ধান শুরু করেছিল। সেই থেকে জেলবন্দি ছিলেন বাংলাদেশের এই ধণকুবের। কিন্তু কোনও এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলায় জামিন পেয়ে যান। এবং জানা যায় তিনি চলতি বছরের ১ অক্টোবর জেল থেকে বেরিয়ে অজ্ঞাতবাসে চলে গিয়েছেন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই দাবি করছেন, তিনি পালিয়ে ভারতে চলে এসেছেন। ফলে হাসিনাঘনিষ্ট এই ধনকুবেরের জামিন কে বা কারা ব্যবস্থা করে দিল সেটা নিয়েই চলছে জল্পনা-কল্পনা।
বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এই আকস্মিক কারামুক্তি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। যার বিরুদ্ধে হাসিনার দলকে অবৈধভাবে অর্থ জোগানের অভিযোগ ছিল, যার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ ছিল তাঁকে কে বা কারা জামিনের ব্যবস্থা করে দিল? বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেই একটা প্রভাবশালী মহল দিলীপ কুমার আগরওয়ালার পক্ষে রয়েছে। তাঁরাই অত্যন্ত গোপনে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। আর সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দিলীপ সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের আমলে দিলীপের মতো হাই প্রোফাইল বন্দিদের জামিনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একাধিক গোয়ন্দা সংস্থার ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দিলীপের ক্ষেত্রে তা হয়নি, তাঁর জামিন হয়েছে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। এর অর্থ হল দিলীপের জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগীতা ছিল, এটা বলাই বাহুল্য। আর সেটা যদি হয়, তাহলে তাঁরা কারা? যারা সরকারে থেকেও আওয়ামী লীগকে সাহায্য করে চলেছেন। এর আগেও আওয়ামী লীগ নেতা সাবের চৌধুরী আশ্চর্যজনকভাবে জামিন পেয়েছিলেন গ্রেফতারের কয়েকদিনের মধ্যেই। যিনি এখন প্রকাশ্যেই বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগের হয়ে। তবে দিলীপের ক্ষেত্রে জামিন পেতে সময় লাগলো দশ মাস মতো।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা হাসিনা আমলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ছিলেন। তাঁর নিজের সংস্থা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের এমডি পদেও আসীন ছিলেন। ১৯৬৮ সালে চুয়াডাঙ্গার এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। তার বাবা অমিয় কুমার আগরওয়ালাও ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের হিন্দু ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম সফল এই আগরওয়ালা পরিবার। ২০০৫ সালে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড নামের রিটেইল শো রুম প্রতিষ্ঠা করেন দিলিপ কুমার আগরওয়ালা। এই সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম ডায়মন্ড আমদানি শুরু করেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, দিলীপ আগরওয়ালা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য উপকমিটির নেতা ছিলেন। এছাড়া তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে এমপি পদে নির্বাচন লড়াই করে পরাজিত হন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরপরই তিনি ভোল পালটে বিএনপিতে ভিড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ৪ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করে গুলশান থানা পুলিশ। গুলশান থানার একটি হত্যা মামলায় ২৭ সেপ্টেম্বর জামিন পান দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। এর তিন দিনের মাথায় ৩০ সেপ্টেম্বর অথবা ১ অক্টোবর কঠোর গোপনীয়তায় তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। অজ্ঞাত কারণে এ সময় কোনো ধরনের গোয়েন্দা রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ ছাড়াও পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও নীরব ছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, সরকারের অভ্যন্তরে থেকে কারা আওয়ামী ঘনিষ্ট এই ব্যবসায়ীকে সাহায্য করলেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post