এক ডাক। ডাকটা অনেকটা নিশির ডাকের মতো। সেই ডাকে দুবাই থেকে সরাসরি আমেরিকায় গিয়ে হাজির হলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তাঁর এই সফর বাংলাদেশ সরকার গোপন রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু খবর কি আর চাপা থাকে? বিশেষ করে ডাকটা যখন আমেরিকার। আর কাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে? কোনও একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে। বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট। ফলে হাতে আর বেশি সময় নেই। এই অবস্থায় কেন আমেরিকা খলিলুরকে ডেকে পাঠালো তা নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোনও কোনও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র বিষয়ক দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার, সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক করেন পল কাপুরের সঙ্গেও।
এই বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই সব প্রতিবেদনের মূল কথা, বাংলাদেশ-আমেরিকা বাণিজ্য নিয়ে মার্কিন শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর। যদিও পর্দার আড়ালে রয়ে গিয়েছে অন্য কথা। আর সেই অন্যকথা হল বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য ভারত তো বটেই আমেরিকাও তদারকি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে। কিন্তু তদারকি সরকার আমেরিকার সেই কূটনৈতিক বার্তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। তাই, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সূত্রের মতে, তদারকি সরকারের এই আচরণ আমেরিকা মেনে নিতে পারছে না। সেটা খলিলুরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বার্তা দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ হয়, সেটা ইউনূস সরকারকে নিশ্চিত করত হবে। এই তিন মার্কিন শীর্ষকর্তা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন আমেরিকার তরফে সব ধরনের সাহায্য কার হবে। কিন্তু নির্বাচনে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না। কারচুপি তো নয়ই।
জানা গিয়েছে, পরারাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসনের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান আসন্ন নির্বাচনের প্রস্ততি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কি অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন প্রত্যাশা করে তারা। এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে খলিলুরের সঙ্গে মার্কিন শীর্ষকর্তাদের মত বিনিময় হয়। সেই সব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা – বি – ১। তবে সে সব বিষয়কে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ ভোট। আমেরিকা যে এই ভোটকে হাল্কাভাবে দেখছে না সেটা কথাবার্তায় খলিলুরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মত বিনিময় হয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়েও। এই প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করা এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়ীক ভিসার (বি – ১) ক্ষেত্রে বন্ড থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানান। হুকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক বিবেচনার আশ্বাস দেন। ভবিষ্যতে পর্যটকদের ওভারস্টে (মেয়াদ উত্তীর্ণ বসবাস) কমলে বন্ড নীতিমালার পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন।
ওঠে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেন। এই প্রসঙ্গে হুকার বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে জানান, সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রয়োজন রয়েছে।












Discussion about this post