আমেরিকায় শাটডাউন। লক করে দেওয়া হয়েছে সেই দেশের বাজেট। আর এই অচলাবস্থার কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সে দেশের একাধিক প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা। চালু রয়েছে কেবলমাত্র জরুরি পরিষেবা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই অচলবস্থার প্রতিফলন হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন তাঁর নিজের গদিই টলমল। লকডাউন শব্দটির সঙ্গে আমাদের পরিচিতি থাকলেও, শাটডাউন শব্দটা বেশ নতুন। এর অর্থ হল, কোনও দেশের সরকারি পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে যাওয়া। যা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের কাজকর্ম থামানোর কথা ঘোষণা করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। অর্থ মহাকাশ বিজ্ঞান গবেষণা থেকে শুরু করে জনসাধারণের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত নাসার বেশিরভাগ প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে। ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এক হাজারের বেশি বিজ্ঞানীকে। পাশাপাশি ছুটিতে পাঠানো হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষাধিক সরকারি কর্মীকেও।
উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম টার্মে টানা ৩৫ দিনের শাটডাউন দেখেছিল আমেরিকাবাসী। ফলে এবারের শাটডাউন কতদিন ধরে চলবে, সেটা কেউ বলতে পারছেন না। তবে বিশ্ব অর্থনীতি বেশ আতঙ্কিত এটা বলাই বাহুল্য। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প প্রশাসন কি পতনের মুখে? দেখা গিয়েছে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গোটা বিশ্বেই ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন। প্রায় সমস্ত দেশকেই তিনি উচ্চ শুল্ক চাপিয়ে কার্যত হুমকি দিয়েছেন। তাঁর ট্যারিফের ধাক্কায় বেসামাল হয়েছে বহু দেশ, কোনও কোনও সরকারের পতনও হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প ছিলেন অবিচল। আমেরিকাকে আবার গ্রেট বানানোর চক্করে তিনি দেশের অর্থনীতিকেই রসাতলে পাঠিয়েছেন। যা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই একটা ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করে। এক দিকে ট্যারিফ, অন্যদিকে ভিসানীতি, ট্রাম্পের জোড়া চাপে নাজেহাল বহু মার্কিন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যবসা গোটাতে শুরু করে। যা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। ১ অক্টোবর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় নতুন অর্থবর্ষ। গত অর্থবর্ষের শেষদিনে অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর নয়া অনুমোদন বিল প্রসঙ্গে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট সনেটররা প্রশাসনের তহবিল সংক্রান্ত বিলে একমত হতে পারেনি কোনও শর্তেই। বরাদ্দ তহবিলের নয়া বিল রিপাবলিকানরা পাশ করাতে চাইলেও, তাতে ভোট দেয়নি ডেমোক্র্যাটরা। ফলে পর্যাপ্ত ভোটের অভাবে ওই বিল প্রেসিডেন্টের টেবিল পর্যন্তই পৌঁছতে পারেনি। এরপরই শাটডাউনের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে হুমকি দিয়েছিলেন গণছাঁটাইয়ের। সেই ধাপেই শুরু হয়েছে ছুটিতে পাঠানো। বিখ্যাত মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় হাজারের বেশি কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে অচিরেই গণছাঁটাই শুরু হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের লাগাতার হুমকি এবং নানান অপরিকল্পিত কাণ্ডকারখানায় দেশের ব্যবসায়ীমহল প্রবল ক্ষুব্ধ। এর সঙ্গে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটরও বিরক্ত ট্রাম্পের উপর। অন্যদিকে ডেমোক্রাটরা মার্কিন বাজেট আটকে দেওয়ায় প্রবল বিপাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগেও কয়েকবার ইঙ্গিত এসেছিল ট্রাম্প সরে দাঁড়াচ্ছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সও এরকম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এখন এই শাটডাউন যদি একমাসের বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে ট্রাম্পের গদিও টলে যেতে পারে।












Discussion about this post