প্রথমে জানা গিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও গুলি চালানেোর ঘটনা ঘটেছে। পরে বাংলাদেশের পুলিশের বক্তব্য, নাহিদ ইসলামের কার্যালয়ে নয়, পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে গুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে বাংলাদেশের রাজনীতি উত্তাল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ১৪ জানুয়ারি সকালে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বুধবার সকালে ৩৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আমাদের একটি সাংগঠনিক অফিসের পাশে গুলির ঘটনা ঘটছে। কে বা কারা করছে জানা যায়নি।
অফিসে থাকা ব্যানার, পেস্টুন, আহ্বায়কের ছবিও ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনা তদন্ত করছে। কিন্তু ঢাকা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী কার্যালয়ে ঘটেনি। সেদুন দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে অনেকেই এই খবর জানিয়েছিলেন। ফলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দিয়ে এসসিপি জানিয়ে দেয় ঢাকার বাড্ডা এসাকায় ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এনসিপির সাংগঠনিক অফিসের পাশে গতকাল গুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি নির্বাচনী অফিস বা নাহিদ ইসলামের অফিস নয়। তিনি আরও জানিয়ে দেন, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলেই তাঁদজের মনে হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কে বা কারা এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটালো, কেনই বা নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুরের কথা সামনে এল। তাহলে কি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে?
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারের জন্য একটি ‘ক্যারাভ্যান’ উদ্বোধন করেছিলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সে সময় তিনি বলেছিলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু যদি গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে দেশে পুরোনো পদ্ধতিই বহাল থাকবে এবং এর ফলে জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।
ঢাকার বাংলামটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণার ‘ক্যারাভ্যান’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এখানে বোঝাই যাচ্ছে, নাহিদ এখন অন্য সুরে কথা বলছেন। কয়েকদিন আগেও এনসিপি গণভোট নিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলছিল। আজ জামাতের সঙ্গে জোটের পর তাঁদের সুর বদলে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা ‘না’-এর পক্ষে কথা বলছেন, তারা আসলে কী বার্তা দিতে চান তা স্পষ্ট নয়। ‘না’ ভোট পাস হলে যে ক্ষমতায় আসবে, সেই শক্তি স্বৈরাচারী হবে। তাই এবারের ভোট বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বছর এগিয়ে নেওয়ার ভোট। এমনকি জামাতের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জিতলে সরকার গঠন করে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করবে জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে বলে দেশকে ছারখার করে দিয়েছে।
সস্তা প্রচারণা করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। সেই নাহিদের নির্বাচনি কার্যালয়ের কাছেই হোক বা তাঁর কার্যালয়ে গুলি চলার ঘটনা ঘটুক। বাংলাদেশ যে বাংলাদেশেই আছে সেটা প্রমানিত। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গুলি চলছে, বোমা চলছে, খুন হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না কেউই। ভারতের এক সাংবাদিক চন্দন নন্দী তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে এটাই কি ভবিতব্য? উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি আননোন গানম্যান বা অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজের উল্লেথ করছেন। এটাও খুব তাৎপর্যপূর্ণ। আসলে ঘটনা ঠিক কি, নাহিদের অফিসে কে বা কারা গুলি চালালো? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।












Discussion about this post