এমনিতেই বাংলাদেশে চলছে ড্রামা আর ডামাডোল। তার ওপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কী রায় দেয় সেদিকে তাকিয়ে সব পক্ষ। মনে করা হয়েছিল বুধবার, ১৯ নভেম্বর সে দেশের শীর্ষ আদালত এই ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়ে দিল বৃহস্পতিবার তারা রায় ঘোষণা করবে। ইতিমধ্যে এই নিয়ে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে আলোচনা। নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মূল প্রশ্ন একটাই – সর্বোচ্চ আদালত কি এই সরকারের তদারকিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সম্মতি দেবে? প্রধান বিচারপতির এদিনের পর্যবেক্ষণ বেশ প্রণিধানযোগ্য। তিনি জানিয়ে দেন, তত্ত্বাবধায়ক মামলার আপিল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও মামলার আপিলের শুনানি হবে না। এটাই এখন সব চেয়ে বড়ো মামলা।
১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। এই সংশোধনী বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দু বছর বাদে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ অগাস্ট হাইকোর্ট এই রিট খারিজ করে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের মামলা হয় ২০০৫ সালে। আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে ( অর্থাৎ সাত বিচারপতির বেঞ্চের মধ্যে পাঁচ বা ছয়জন বিচারপতির মতকে অগ্রাধিকার দেওয়া) ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে রায় দেন। ফের পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়। যা ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পেশ হয়। পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয় গেজেট। গত ৫ অগাস্ট ফের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ‘সুশাসনের জন্য বাংলাদেশ’য়ের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সহ পাঁচজন আবেদন করেন। বাকিরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া এবং জাহরা রহমান। ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামা আলমগীর পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। বিএনপির তরফেও পৃথকভাবে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পৃথকভাবে মামলা দায়ের করে জামায়াতে ইসলামি। মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশের দুইজন নাগরিক।
তাঁদের একজনের আইনজীবী এদিন বলেন, ‘সংবিধান অনুসারে, সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে একটি তদারকি সরকার গঠন করতে হয়। এক বছর হল সংসদ মুলতুবি হয়ে রয়েছে। কিন্তু তদারকি সরকার গঠন করা হয়নি।’ একই অভিমত বিএনপির আইনজীবী রফিক কুদ্দুস কাজল এবং জামাত পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির। তবে আইনজীবী শরিফ ভুঁইয়া জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় সর্বোচ্চ আদালত আগামীকাল তদারকি সরকার নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবে। তা না হলে রায় নিয়ে নানা মত, নানারকম ব্যাখ্যা তৈরি হবে। তবে সব ব্যাখ্যার একটাই সুর হবে বলে আমার বিশ্বাস। আর তা হল বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন কেয়ারটেকার সিস্টেমে হবে না। ’ তবে জামাতের আইনজীবী শিশির মনির অবশ্য বলেছেন, কেয়ারটেকার ব্যবস্থা ফিরে এলেও আগামী নির্বাচন হবে এই সরকারের তদারকিতে।
এই প্রসঙ্গে তিনি জুলাই সনদের বিষয়টি তুলে ধরেন। শিশির মনির বলেন, তদারকি সরকার তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে – বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন। আগামী নির্বাচন বর্তমান পরিকাঠামোর মধ্যে দিয়েই হবে। অথবা বিকল্প হিসেবে আমাদের জুলাই সনদ রোল মডেল হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post