শেখ হাসিনার জামানার পর এই প্রথম ভারতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান। শেষ কয়েকদিনে ভারত ও বাংলাদেশের বেশ কিছু সংঘাত থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো হওয়ার নয়। কিন্তু হটাৎ কেন ভারতে বাংলাদেশের সেনা প্রধান? যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তাহলে কি অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনূসের গদি পাল্টে যাবে? তাহলে কি এইবার জামাত বা বিনপি ক্ষমতায় আসবে? যা নিয়ে দানা বেঁধেছে এক গুচ্ছ প্রশ্ন। ওয়াকার উজ্জামানের ভারতে আগমন নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, ভারতের সামরিক কর্তাদের সাথে বৈঠক হতে পারে তার।
ওয়াকার উজ্জামানের ভারত সফর ইউনূসের ঘুম ওড়াতে বাধ্য। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একেবারে বদলে যেতে পারে। ইউনাইটেড নেশন জেনারেল এসেম্বলিতে ইউনুস যখন গেছিলেন তখন তিনি ভারত ও শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বহু অভিযোগ করেন। যা ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মাঝে আরো একবার চির ধরিয়েছে। যার পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভারতের তরফ থেকেও দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৭৯৩ টি দূর্গাপুজোয় অসুরের গালে দাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার ধর্মীয় মেরুকরন খুঁজে পান। যা নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয়, অসুরের গালে দাড়ি রাখার মানে কোথাও ইসলামিক ধর্মকে টার্গেট করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই হিন্দু ধর্মের মানুষকে এবিষয়ে ইতিমধ্যেই ইনফর্ম করা হয়েছে। যে ৭৯৩ টি দূর্গাপুজোয় অসুরের গালে দাড়ি রাখা হয়েছিল সেই কেসের বিপক্ষে তদন্ত করবে বাংলাদেশ সরকার।
এইরকম দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে বিশৃখলার সৃষ্টি হয়েছে তার কারণ হিসেবেও ভারতকে দায়ী করেছেন মহম্মদ ইউনুস। একটি সাক্ষাৎকারে মহম্মদ ইউনুস আবারো ভারতকে টার্গেট করে বলেন, এগুলি গুজব। যা ছড়াচ্ছে ভারত। শেষ দুই বছর বাংলাদেশের দুর্গাপুজো সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাল্টা সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দুদের অত্যাচার করা হচ্ছে তাকি সবটাই অতিরঞ্জিত? উত্তরে ইউনুস বলেন, এই সম্পূর্ণটাই পারিবারিক কোন্দল এর মধ্যে কোনো হিন্দু-মুসলিমের ব্যাপার নেই।
শুধু অসুরের গালে দাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করেই নয় পাশাপাশি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের ক্লাস এইটের এক আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ ও আর এক সম্প্রদায়ের মানুষ গোষ্ঠী দ্বন্দে জড়িয়ে পরে যার ফলে আহত হন বহু মানুষ ও মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের। এই ঘটনাতেও সরাসরি ভারতকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ। চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর অত্যাচার থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও সেনাবাহিনী আদিবাসীদের ওপর গুলি চালালেও তারা ভারতেরই হাত খুঁজে পান। অর্থাৎ এর থেকে এইটাই বোঝা যায় যে বাংলাদেশে যা কিছু খারাপ হচ্ছে তার জন্য দায়ী ভারত। ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা স্টেটমেন্ট দিয়ে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের নারকীয় ঘটনায় ভারত দায়ী নয়। বাংলাদেশের তরফ থেকে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইন রক্ষা করতে ব্যর্থ। তাই তারা তাদের দায় অন্যদের ওপর ফেলছেন। বিষয়টিতে তদন্ত হওয়া উচিত।
এই পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে ভারতে বাংলাদেশের সেনা প্রধানের আগমন যা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ জল্পনার বিষয় আরও চর্চিত হল।












Discussion about this post